
আগরতলা, ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : শাসক দল বিজেপির একাংশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ। রাজধানী আগরতলায় ১৩-প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতাপগড় এলাকায় সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় এই অভিযোগ নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ১৩-প্রতাপগড় মণ্ডলের ১২ নম্বর বুথের সভাপতি কৃষ্ণ সরকার। প্রতাপগড়ের ১২ নম্বর বুথ এলাকার বাসিন্দা অসহায় মহিলা ইতি দাস অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী নেই। বিভিন্ন বাজারে হেঁটে হেঁটে চা বিক্রি করে দুই মেয়েকে নিয়ে কোনওরকমে সংসার চালান তিনি। দুর্গাপুজোর আগে বহু কষ্টে সঞ্চয় করা অর্থে মা গোসাঁইয়ের আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় একটি ছোট বাড়ি কিনেছেন ইতি দাস। অভিযোগ, ওই বাড়ি কেনার পর থেকেই তাঁর উপর নেমে আসে দুর্বিষহ পরিস্থিতি।
ইতি দাসের অভিযোগ, বাড়ি কেনার পর থেকেই বুথ সভাপতি কৃষ্ণ সরকার তাঁর কাছ থেকে ৯৬ হাজার টাকা দাবি করতে থাকেন। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে এই টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে লাগাতার হুমকি ও ভয় দেখানো হচ্ছিল। সম্প্রতি টাকা নিয়ে আলোচনার জন্য কৃষ্ণ সরকার ফোনে ডেকে পাঠান তাঁকে। তিন দিনের মধ্যে দেখা করবেন বলে ইতি দাস জানালেও রবিবার ফের ফোন করে টাকা দাবি করা হয় এবং হুমকিও দেওয়া হয়।
ভয়ে রবিবার তিন হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে মেয়েকে নিয়ে কৃষ্ণ সরকারের বাড়িতে যান ইতি দাস। সেখানে ৩ হাজার টাকা দিতে গেলে কৃষ্ণ সরকার তা ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং পুরো টাকা ছাড়া কিছুই নেবেন না বলে জানান। পরে ইতি দাস বাড়ি ফিরে আসার সময় এলাকার কালী মন্দিরের সামনে তাঁর পথ আটকানো হয় বলে অভিযোগ। সেখানে কৃষ্ণ সরকার, তাঁর পুত্র জিৎ সরকার, স্ত্রী অপর্ণা সরকার এবং আরও দুই মহিলা ইতি দাসকে মারধর করেন। অভিযোগ, ওই সময় তাঁর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও গলার একটি চেন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার সময়ে বহু প্রত্যক্ষদর্শী থাকলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদে এগিয়ে আসেননি বলে দাবি।
রবিবার সন্ধ্যায় গোটা ঘটনার বিষয়ে পূর্ব আগরতলা মহিলা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান ইতি দাস। পরে তিনি সাংবাদিকদের সামনেও ঘটনার বিবরণ দেন।
এই ঘটনায় বিজেপি-এর ১২ নম্বর বুথ সভাপতি কৃষ্ণ সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে ১৩ প্রতাপগড় মণ্ডলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তা মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বিজেপির রাজ্য দফতরেও ঘটনাটি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ