
আগরতলা, ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : ককবরক ভাষা দিবস উদযাপন ঘিরে সরকারি ব্যবস্থাপনার চরম অব্যবস্থা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ উঠল। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা ধরে সরকারি অনুষ্ঠানে আটকে রাখা কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের হাতে শেষে তুলে দেওয়া হল বিশাল আকারের খাবারের প্যাকেট—যার ভিতরে ছিল মাত্র একটি করে বাঙ্গুই ও একটি কমলা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ১৯ জানুয়ারি ককবরক ভাষা ত্রিপুরার সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সেই উপলক্ষ্যে প্রতি বছর রাজ্যজুড়ে ককবরক ভাষা দিবস পালন করা হয়। সোমবার ককবরক দিবস উপলক্ষ্যে ত্রিপুরা স্টেট একাডেমি অফ ট্রাইবেল কালচার ও ট্রাইবেল রিসার্চ অ্যান্ড কালচারাল ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আগরতলায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
সকালে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ককবরক দিবস উপলক্ষে আরও একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ, সকাল সাতটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত—টানা প্রায় সাত ঘণ্টা ছাত্রছাত্রীদের কোনও পর্যাপ্ত খাবার বা বিশ্রামের ব্যবস্থা ছাড়াই অনুষ্ঠানে আটকে রাখা হয়। অনুষ্ঠান শেষে রবীন্দ্রভবনে ছাত্রছাত্রীদের হাতে দেওয়া হয় বিশাল আকারের খাবারের প্যাকেট। দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত ও পরিশ্রান্ত থাকার পর প্যাকেট হাতে পেয়ে তারা আশান্বিত হলেও খুলতেই হতাশা চরমে পৌঁছায়। প্যাকেটে ছিল মাত্র একটি করে বাঙ্গুই ও একটি কমলা।
এক ছাত্র জানায়, “এত বড় প্যাকেট দেখে ভেবেছিলাম ভেতরে অনেক কিছু থাকবে। কিন্তু খুলে দেখি শুধু একটি বাঙ্গুই আর একটি কমলা।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীদের নিতে আসা বহু অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের আচরণ শিশুদের সঙ্গে চরম অবমাননাকর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। অনেকের মতে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ‘রাজকীয় রসিকতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজ্যের অধিকাংশ মন্ত্রী বাইরে থাকায় তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ