ভূমি অধিগ্রহণ দুর্নীতি মামলায় ১৭ জন দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক ও কর্মী গ্রেফতার
ধনবাদ, ৯ জানুয়ারি (হি.স.) : দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে রাজ্যের বহুচর্চিত রিং রোড ক্ষতিপূরণ কেলেঙ্কারিতে কড়া পদক্ষেপ নিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি)। একযোগে ধনবাদ, রাঁচি, দুমকা, গিরিডিহ এবং দেওঘরে অভিযান চালিয়ে মোট ১৭ জন অভিযুক্ত আধিকারিক
ভূমি অধিগ্রহণ দুর্নীতি মামলায় ১৭ জন দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক ও কর্মী গ্রেফতার


ধনবাদ, ৯ জানুয়ারি (হি.স.) : দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে রাজ্যের বহুচর্চিত রিং রোড ক্ষতিপূরণ কেলেঙ্কারিতে কড়া পদক্ষেপ নিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি)। একযোগে ধনবাদ, রাঁচি, দুমকা, গিরিডিহ এবং দেওঘরে অভিযান চালিয়ে মোট ১৭ জন অভিযুক্ত আধিকারিক ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার এসিবি সূত্রে জানা গেছে, ধানসার, দুহাতান্দ, মানাইতান্দ এবং ঘোঘরা মৌজার রিং রোড নির্মাণের জন্য অধিগৃহীত জমির ক্ষতিপূরণ বণ্টনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সমাজকর্মী রমেশ রাহী প্রথম ২০১৩ সালে এই দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। অভিযোগ, প্রায় ২৩৭ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ তহবিলের মধ্যে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা আধিকারিক ও দালালচক্রের যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন বরখাস্ত জেলা ভূমি অধিগ্রহণ আধিকারিক উদয়কান্ত পাঠক, তৎকালীন সার্কেল অফিসার বিশাল কুমার, সার্কেল ইন্সপেক্টর নীলম সিনহা, অঁচল দফতরের কর্মী কুমারী রত্নাকরসহ ভূমি অধিগ্রহণ ও অঁচল দফতরের একাধিক কর্মচারী।

তদন্তে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি নথিতে ব্যাপক জালিয়াতি করেছেন। বহু ক্ষেত্রে পিছনের তারিখে নথিতে স্বাক্ষর করে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। এমনকী একজন ব্যক্তি ভুয়ো নথির মাধ্যমে প্রায় ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলেও তদন্তে জানা গেছে। নিবন্ধন দফতর ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়েই এই দুর্নীতি সংগঠিত হয়।

সমাজকর্মী রমেশ রাহী জানান, জনসাধারণের সুবিধার জন্য রিং রোড নির্মাণের কথা থাকলেও দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকরা ক্ষতিপূরণের অর্থ নিজেদের পকেটে ভরেছেন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে এসিবি এফআইআর দায়ের করেছিল এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২৬ সালে গ্রেফতারি হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে অভিযুক্তদের চল ও অচল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে প্রকৃত জমির মালিকদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

এদিন এসিবি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই অভিযান শুধুমাত্র সূচনা। তদন্তে আরও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বাজেয়াপ্ত করা নথি খতিয়ে দেখে আগামী দিনে আরও গ্রেফতার হতে পারে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande