দেরিতে রোগ নির্ণয় ও সচেতনতার অভাব সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারে বড় চ্যালেঞ্জ: ডা. অরুণাভ রায়
দুর্গাপুর, ৯ জানুয়ারি (হি.স.): সচেতনতার অভাব এবং দেরিতে রোগ নির্ণয়ের প্রবণতার কারণেই সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার এখন সমাজে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুরে মণিপাল হাসপাতালের উদ্যোগে ‘অন্বেষণ – মেডিক্যাল এডুকেশন ফর ম
দেরিতে রোগ নির্নয়, সচেতনতার অভাবে  সার্ভাইকাল ক্যান্সার বড় চ্যালেঞ্জ- গাইনোকোলজিক অনকোলজি ডঃ অরুনাভ রায়


দুর্গাপুর, ৯ জানুয়ারি (হি.স.): সচেতনতার অভাব এবং দেরিতে রোগ নির্ণয়ের প্রবণতার কারণেই সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার এখন সমাজে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুরে মণিপাল হাসপাতালের উদ্যোগে ‘অন্বেষণ – মেডিক্যাল এডুকেশন ফর মিডিয়া’ সচেতনতা অধিবেশনে এমনটাই মন্তব্য করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অরুণাভ রায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই সচেতনতা অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতাল (ইএম বাইপাস)-এর চিকিৎসক ডা. অরুণাভ রায়, ডা. সুমন্ত দে এবং ডা. অশেষ হালদার। তাঁরা ক্যান্সার, জটিল রোগ এবং হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডা. অরুণাভ রায় বলেন, “এই ক্যান্সার মূলত জরায়ুমুখে ভাইরাস সংক্রমণের ফলে হয়। কম বয়সে বিবাহ, একাধিক গর্ভধারণ, একাধিক যৌন সঙ্গী, অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, অতিরিক্ত ধূমপান এবং দীর্ঘদিন গর্ভনিরোধক পিল ব্যবহারের ফলে হরমোনগত পরিবর্তন থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।” তিনি জানান, সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য। কারণ, এটি ভাইরাসজনিত রোগ। অল্প বয়সে টিকা নিলে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ডা. রায় বলেন, “৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের দুটি টিকা নেওয়া জরুরি। ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মহিলারাও এই টিকা নিতে পারেন। যাঁদের শারীরিক সম্পর্ক হয়নি, তাঁরা টিকা নিলে প্রায় ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা পান। আর যাঁদের শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রায় ৬০ শতাংশ।” তিনি আরও জানান, নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন - এর নির্দেশিকা অনুযায়ী মহিলাদের জীবনে অন্তত সাতবার স্ক্রিনিং করানো প্রয়োজন। তবে অন্তত দু’বার কিছু বিশেষ টেস্ট করালেও সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার থেকে অনেকাংশে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যেসব হাসপাতালে উন্নতমানের ‘গ্রেড-এ’ ক্যান্সার চিকিৎসা পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande