
পূর্ব সিংভূম, ৯ জানুয়ারি (হি.স.) : একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে বেশ কয়েক লক্ষাধিক টাকা জমা থাকলেও সেই অর্থ ব্যবহার করতে না পেরে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার সোনারির বাসিন্দা অঞ্জলি বোস বর্তমানে এমজিএম হাসপাতালে মরণাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বড় হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিলেও একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের প্রক্রিয়াগত জটিলতায় আটকে রয়েছে তাঁর নিজের জমানো টাকা।
২০০৮–০৯ সালে বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণের পর অঞ্জলি বসু জীবনের সঞ্চয় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ওই ব্যাঙ্কের সোনারি শাখায় জমা রাখেন। তাঁর আশা ছিল, বার্ধক্যে কোনও প্রয়োজনে এই অর্থই ভরসা হবে। কিন্তু আজ সেই অর্থই যেন তাঁর নাগালের বাইরে।
শুক্রবার তাঁর পরিজনদের অভিযোগ, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—অঞ্জলি বসুর অ্যাকাউন্টে কোনও নমিনি নথিভুক্ত নেই। ফলে সশরীরে ব্যাঙ্কে উপস্থিত না হলে অর্থ তোলা সম্ভব নয়। পরিবারের সদস্যরা বারবার ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, অঞ্জলি বসু শয্যাশায়ী ও সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন, ব্যাঙ্কে আসা একেবারেই অসম্ভব।
পরিজনরা এমনকী প্রস্তাব দেন, ব্যাঙ্ক চাইলে সরাসরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসার খরচ মিটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু সেই মানবিক আবেদনও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অঞ্জলি বসুর ছোট বোন গায়ত্রী বসু—তিনিও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা| তিনি এমজিএম হাসপাতালে বিজেপির প্রাক্তন নেতা বিকাশ সিংকে ডেকে আনেন। হাসপাতালে এসে তিনি পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো বিষয়টি জানেন।
গায়ত্রী বসু হুঁশিয়ারি দেন, অর্থের অভাবে যদি তাঁর দিদির মৃত্যু হয়, তবে তিনি দিদির মরদেহ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের শাখায় নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানাবেন।
শুক্রবার বিজেপির প্রাক্তন নেতা বিকাশ সিং এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করে পূর্ব সিংভূমের জেলাশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য