
আগরতলা, ৯ জানুয়ারি (হি.স.) : শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে ত্রিপুরা সরকার বদ্ধপরিকর এবং সেই লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে—এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। শুক্রবার আগরতলার বাপুজী বিদ্যামন্দির হাই স্কুলের নতুন ভবনের ভূমিপূজন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোট ৬ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। আধুনিক পরিকাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও স্বাধীনতা সংগ্রামী ভূপেশ চন্দ্র চক্রবর্তীর দান করা জমির উপর বাপুজী বিদ্যামন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় গঠনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সুরেন্দ্র দাস, ইন্দ্র কুমার দাস ও কার্তিক চক্রবর্তী প্রমুখ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়টি হাই স্কুলে রূপান্তরিত হয়। শুক্রবার ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন ভবনের ভূমিপূজন ও শিলান্যাস সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত বছরে ৭০৩ জন মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে আই-প্যাড প্রদান করা হয়েছে। রাজ্যের ৮৪টি বিদ্যালয়কে পিএম-শ্রী বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যালয়কে হাই স্কুলে এবং ৮টি হাই স্কুলকে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
এছাড়াও, ১,৩৮৪টি বিদ্যালয়কে আইসিটি প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে এবং ৪৩৩টি বিদ্যালয়কে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মোট ১,২১০টি স্মার্ট ক্লাসরুম চালু রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভূপেশ চন্দ্র চক্রবর্তীর নিকট আত্মীয় দেবব্রত চক্রবর্তীকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ