
ওয়াশিংটন, ১০ অক্টোবর (হি.স.) : বিশ্ববাজারে দ্রুত বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম কমাতে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বকে লক্ষ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার এই ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর এই সমঝোতা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প জানান, রাশিয়া প্রাথমিকভাবে ৩ লক্ষ টন ডিজেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে। নভেম্বর মাসে আরও ৫ লক্ষ টন এবং ডিসেম্বর মাসে ১০ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আরও বলেছেন, রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলির পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে অল্প সময়ের মধ্যেই অতিরিক্ত ৩০ লক্ষ টন ডিজেল জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।
এদিকে, শুক্রবার মার্কিন অর্থ দফতর ঘোষণা করেছে, বিশ্ববাজারে রুশ ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাশিয়ার জ্বালানি ক্ষেত্রের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হবে।
পরে ক্রেমলিনের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও বিশ্ববাজারে তেল এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে বলে পুতিন জানিয়েছেন। এর ফলে সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং প্রেসিডেন্টের প্রশাসন, বিশেষ পরিষেবা ও অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়ে সম্মতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। আলোচনায় ইউক্রেন সংকটের সমাধানের সম্ভাবনা, ইরান পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
অন্যদিকে, এই সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেছেন, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা দুর্বলতার পরিচয়। তাঁর বক্তব্য, পুতিনকে দেওয়া কোনও ছাড় সভ্য বিশ্বের স্বার্থে যাবে না। রাশিয়া ডিজেল সরবরাহের বিনিময়ে সন্ত্রাস ও প্রতারণার মাধ্যমে তার মূল্য চোকাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়াকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া এমন একটি যুদ্ধে বিনিয়োগের শামিল, যে যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন, দীর্ঘায়িত করা নয়। রাশিয়ার সঙ্গে পারস্পরিক ভিত্তিতে উত্তেজনা কমানোর উপর জোর দেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার বড় আকারের সামরিক অভিযানের পর মস্কোর অর্থনীতিকে চাপে রাখতে নেওয়া কঠোর নিষেধাজ্ঞা নীতির ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত মাসে ট্রাম্প এমন একটি বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল রুশ জ্বালানির বৃহত্তম ক্রেতাদের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে তেল ও গ্যাস রফতানি থেকে রাশিয়ার মুনাফা অর্জন আরও কঠিন করে তোলা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য