৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পুলিশি অভিযান: দুটি কন্টেইনারে বিপুল গবাদিপশু পাচারের প্রচেষ্টা নস্যাৎ, গ্রেফতার ৩
ঝাড়গ্রাম, ১২ অক্টোবর (হি.স.) : গোপন সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে কন্টেইনার গাড়িতে করে গবাদিপশু পাচারের এক বড়সড় পরিকল্পনা ভেস্তে দিল ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। ঝাড়গ্রামের ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে দুটি আটকা পড়ে যাওয়া কন্টেইনারে তল্লাশি চ
৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পুলিশি অভিযান: দুটি কন্টেইনারে বিপুল গবাদিপশু পাচারের প্রচেষ্টা নস্যাৎ, গ্রেফতার ৩


ঝাড়গ্রাম, ১২ অক্টোবর (হি.স.) : গোপন সূত্রের সংবাদের ভিত্তিতে কন্টেইনার গাড়িতে করে গবাদিপশু পাচারের এক বড়সড় পরিকল্পনা ভেস্তে দিল ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। ঝাড়গ্রামের ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে দুটি আটকা পড়ে যাওয়া কন্টেইনারে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৪৫টি গবাদিপশু উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে গজাশিমুল চত্বরে অভিযান চালিয়ে পশুপাল উদ্ধার ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের পরিচয়— মোহাম্মদ রাইজউদ্দিন, শেখ মুস্তাফা এবং শেখ শারীফ। ধৃত তিনজনেরই মূল বাসস্থান হুগলি জেলার পাণ্ডুয়া এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, ওড়িশার টেঙ্গা এলাকা থেকে ওই গবাদিপশুগুলিকে অত্যন্ত নির্মম ও বিপজ্জনকভাবে কন্টেইনারে বোঝাই করে হাওড়ার উলুবেড়িয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় গোপন মারফতে আগাম খবর পেয়ে ঝাড়গ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আইসি) উদয়শঙ্কর ঘোষের সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল গজাশিমুলের কাছে ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পৌঁছায় এবং কন্টেইনার দুটিকে ঘিরে ফেলে আটক করে। পরবর্তীতে কন্টেইনারের মুখ খুলে ভেতরে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে ঠাসাঠাসি করে রাখা ৪৫টি গবাদিপশু।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাচারের সময়ে চারদিক বন্ধ কন্টেইনারের ভেতর পশুগুলিকে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে সোজা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। কন্টেইনারের ভেতরের অত্যধিক উত্তাপ ও দমবন্ধ পরিবেশ থেকে বাঁচতে ভেতরে কৃত্রিম পাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল বলে লক্ষ্য করেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া সমস্ত পশুগুলিকে নিরাপদে পরিচর্যার জন্য ঝাড়গ্রাম শহরের একটি স্থানীয় গোশালায় হস্তান্তরিত করা হয়েছে।

ঝাড়গ্রাম থানা সূত্রে খবর, পশুর প্রতি ক্রুরতা নিবারণ আইন এবং অবৈধ পাচার সম্পর্কিত একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার ধৃতদের ঝাড়গ্রাম মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই আন্তঃরাজ্য গবাদিপশু পাচারের নেপথ্যে কোন বড়সড় আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বরও ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কের দমনি এলাকা থেকে দুটি লরি আটক করে একইভাবে ৪৫টি গরু উদ্ধার করেছিল মানিকপাড়া পুলিশ বিট হাউস এবং সেই ঘটনায় দুই চালককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জাতীয় সড়ককে মাধ্যম করে পুলিশের চোখ এড়িয়ে কখনও ঢাকা লরি আবার কখনও বদ্ধ কন্টেইনার ব্যবহারে পাচারের এই প্রবণতা বেড়ে চলায় নাকা চেকিং ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande