
নন্দকুমার, ১৩ অক্টোবর (হি.স.):মায়ের চোখের জল মোছাতে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ বছর আগের সেই কাহিনি আজও জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাটের ব্যবত্তাবাটির বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর সঙ্গে। নিয়মনিষ্ঠা মেনে আজও ঐতিহ্য বজায় রেখে পুজোর আয়োজন করে আসছে এই পরিবার।
পরিবারের জনশ্রুতি অনুযায়ী, একসময় পরিবারের এক মহিলা পাশের গ্রামের দুর্গাপুজোয় অঞ্জলি দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তাঁকে অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে হয়। মায়ের চোখে জল দেখে ব্যথিত হন তাঁর ছেলে স্বার্থকরাম। এরপরই তিনি নিজের বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, দেবী আরাধনায় ধনী-দরিদ্রের কোনও ভেদাভেদ থাকতে পারে না।
পরিবারের পূর্বপুরুষ স্বার্থকরাম তাম্রলিপ্তের রাজা তাম্রধ্বজের রাজপরিবারের ব্যবস্থাপক ছিলেন। তাঁর সেই পেশার সূত্র ধরেই এলাকার নাম হয় ব্যবত্তারহাট বলে জানা যায়।
বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে ভিনরাজ্য ও বিদেশে থাকলেও পুজোর সময় সবাই বাড়িতে ফিরে আসেন। পরিবারের নবীন ও প্রবীণ সদস্যদের সম্মিলিত উদ্যোগে পুজোর আয়োজন হয়। দেবীকে বিভিন্ন পদে ভোগ নিবেদন করা হয়। বিশেষ আকর্ষণ নানা ধরনের বড়ি দিয়ে তৈরি ভোগ। পুজোর প্রস্তুতিতে এখন থেকেই ব্যস্ত পরিবারের মহিলারা।
পুজোর দিনগুলিতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মানুষ ভোগ গ্রহণ করেন। ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আজও এই পুজো এলাকার মানুষের মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / এ. গঙ্গোপাধ্যায়