
নয়াদিল্লি, ১৪ অক্টোবর (হি.স.): দরিদ্র, বঞ্চিত ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির সামাজিক সুরক্ষা আরও মজবুত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরলেন বিজেপি নেতা নিতিন নবীন। বুধবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এই কর্মসূচিতে ৫৩,৪২৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এর ফলে দেশজুড়ে প্রায় ৩.২০ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন।
নিতিন নবীন তাঁর পোস্টে বলেন, সমাজের শেষ সারিতে থাকা মানুষের কাছে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্তকে অন্ত্যোদয়ের লক্ষ্য পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে , এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং তার অধীন চারটি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির নতুন নাম হবে ‘প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সহায়তা যোজনা’। ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বার্ধক্য পেনশন প্রকল্পের নাম হবে ‘প্রধানমন্ত্রী বৃদ্ধাবস্থা পেনশন যোজনা’, ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বিধবা পেনশন প্রকল্পের নাম হবে ‘প্রধানমন্ত্রী বিধবা পেনশন যোজনা’, ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় প্রতিবন্ধী পেনশন প্রকল্পের নাম হবে ‘প্রধানমন্ত্রী দিব্যাঙ্গজন পেনশন যোজনা’ এবং জাতীয় পরিবারিক সুবিধা প্রকল্পের নাম হবে ‘প্রধানমন্ত্রী পরিবার লাভ যোজনা’।
বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের পেনশনের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে ৭৯ বছর বয়স পর্যন্ত নির্দিষ্ট শ্রেণির
বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা মাসে ৩৭৫ টাকা এবং ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সিরা ৬২৫ টাকা পেনশন পান। পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এত দিন ৮০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা থাকলে এই পেনশনের সুবিধা পাওয়া যেত। নতুন নিয়মে ৪০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা থাকলেও যোগ্য ব্যক্তিরা পেনশন পাবেন। বয়সের শর্ত অপরিবর্তিত থাকছে।
প্রবীণ নাগরিক, বিধবা মহিলা এবং পারিবারিক সুবিধা প্রকল্পের ক্ষেত্রে অন্য কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না। বিভিন্ন পেনশন প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকা আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে পিআইবি-র বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
১৯৯৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হয়। কেন্দ্রের দাবি, নতুন সিদ্ধান্তে ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রায় ৩.২০ কোটি উপভোক্তা উপকৃত হবেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য