
নয়াদিল্লি, ১৪ অক্টোবর (হি.স.): উত্তর প্রদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রজনী তিওয়ারি বলেছেন, রাজ্য সরকার উচ্চশিক্ষাকে আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তি-ভিত্তিক এবং কর্মসংস্থানমুখী করে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। তিনি জানান, রাজ্যে নকলবাজ মাফিয়াদের কার্যকরভাবে দমন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-র সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং মেধাবী ছাত্রীদের বিনামূল্যে স্কুটার বিতরণের প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
উত্তর প্রদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং হরদোইয়ের শাহাবাদ কেন্দ্রের বিধায়ক রজনী তিওয়ারি ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উচ্চশিক্ষার সংস্কার, ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা, শূন্য পদে নিয়োগ, বিরোধী রাজনীতি এবং শাহাবাদের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যে সমস্ত বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে যাতে ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য দূরে যেতে না হয়।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণে নিয়োগ সম্পন্ন করেছে। বাকি পদগুলি পূরণের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-র উদ্দেশ্য হল শিক্ষাকে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, কলেজগুলিতে ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং ডিজিটাল পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামীণ কলেজগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত করার জন্য বাজেট বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হল আধুনিক প্রযুক্তি প্রত্যেক পড়ুয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়া। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজ্যে পরীক্ষায় নকল করার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে মদত দেওয়া হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরীক্ষাগুলি এখন স্বচ্ছ ও নকল–মুক্ত ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে যুবসমাজের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার পরিমাণ কমেছে। ছাত্রীদের ট্যাব ও স্মার্টফোন প্রদান করা হয়েছে। মেধাবী ছাত্রীদের স্কুটার দেওয়ার প্রকল্প নিয়েও কাজ চলছে। তিনি জানান, মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও সরকারি কলেজ খুলে ছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কারণগুলি পর্যবেক্ষণ করছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা বিভাগ। যদি কোনও শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণির পর উচ্চশিক্ষায় ভর্তি না হয় অথবা প্রথম বর্ষের পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয়, তবে এর কারণগুলি খতিয়ে দেখে তার সমাধান খোঁজা হচ্ছে।
মহিলা সংরক্ষণ ইস্যুতে তিনি বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংসদে নারী শক্তি বন্দন আইনের ওপর আলোচনার সময় বিরোধীদের দ্বিমুখী চরিত্র সামনে এসেছে। নারীরা এখন বিরোধীদের রাজনীতি এবং তাদের আসল রূপ বুঝতে পারছেন। সমাজবাদী পার্টির পিডিএ ফর্মুলা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধীদের কোনও স্পষ্ট আদর্শ, নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি নেই। তিনি দাবি করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি কোনও ভেদাভেদ ছাড়াই সমস্ত শ্রেণীর মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে এবং জনগণ এখন নিছক স্লোগানের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ