
ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর (হি.স.): ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-বিরোধী যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ’ আন্দোলনে মার্কিন অনুদানদাতাদের অর্থসাহায্য রয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন। একই সঙ্গে এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ভারতে শান্তিপূর্ণ পাল্টা আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দুই নেতাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর সময়েই তাঁর এই মন্তব্য সামনে এসেছে।
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে মিলবেন দাবি করেন, কয়েক জন মার্কিন অনুদানদাতা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর আন্দোলনকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন।
মিলবেনের অভিযোগ, কিছু অনুদানদাতা আমেরিকায় শিক্ষিত কর্মীদের বেছে নেন, যাতে তাঁরা নিজ নিজ দেশে রক্ষণশীল নেতাদের চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তবে তিনি কথিত অর্থসাহায্যকারীদের নাম প্রকাশ করেননি। অভিযোগের সমর্থনে কোনও আর্থিক নথি বা প্রমাণও পেশ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বিদেশি অর্থসাহায্য পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের আয়োজক ও তাঁদের বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে বিক্ষোভের খরচ বহন করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিলবেন বলেন, আমেরিকা থেকে আসা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তির সামনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মাথা নত করবেন না। ভারতের যুবসমাজের কাছে সিজেপি-র বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সংগঠিত করার আবেদন জানান তিনি। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে পাল্টা আন্দোলন জরুরি।
২০২৩ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাষ্ট্রীয় আমেরিকা সফরের সময় ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় প্রবাসীদের একটি অনুষ্ঠানে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিলেন মিলবেন।
এদিকে, গত সপ্তাহে ভারতে ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের প্রতিবাদে বড় আকারের বিক্ষোভ হয়। বিরোধীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপিও সিজেপি-র নেতা এবং বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির ইঙ্গিতে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। তবে বিদেশি অর্থসাহায্য নিয়ে মিলবেন বা বিজেপির তোলা অভিযোগগুলির স্বাধীন সমর্থনকারী প্রমাণ সামনে আসেনি।
বুধবার সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে প্রবেশের জন্য ব্যারিকেড টপকানো বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তাঁরা ছিলেন। পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের অনুমোদিত স্থানগুলির তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য