
কলকাতা, ১৫ অক্টোবর (হি.স.) : রাজ্যে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে টাটা পাওয়ার সোলারুফ। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, আগামী তিন বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩ লক্ষ বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা রুফটপ সোলার প্যানেল চালুর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যে সৌর প্যানেল তৈরির নতুন ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উপযুক্ত জমির সন্ধানে ইতিমধ্যেই হলদিয়া, বাঁকুড়া এবং দুর্গাপুর এই তিনটি শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চলকে পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে এবং এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বিস্তারিত প্রস্তাব পেশ করার প্রস্তুতি চলছে। আগামী বছরের ডান্ডিয়া উৎসবের আগেই এই নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার জোরকদম প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে।
পরিবেশ রক্ষায় সৌরশক্তির বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে টাটা পাওয়ারের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে ‘ঘর ঘর সোলার’ কর্মসূচি। বিশেষ এই অর্থায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাহকেরা কোনো ধরনের অগ্রিম বা ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই তাঁদের বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর সুযোগ পাবেন। এর ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মাসিক কিস্তি বা ইএমআই -এর সুবিধা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। সাধারণত ১ থেকে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরিবারের প্রাত্যহিক বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী বেছে নেওয়া সম্ভব। এছাড়া যোগ্য গ্রাহকেরা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা’-র সুবাদে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক ভর্তুকি বা ক্যাশব্যাক লাভ করতে পারবেন। উল্লেখ্য, এই বিশেষ অর্থায়ন প্রকল্পটি ‘অ্যারেম’ -এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।
শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলগুলিতেও সৌরশক্তির সুফল ছড়িয়ে দিতে সমান্তরালভাবে শুরু হয়েছে ‘মেরা গাঁও, মেরা সোলার’ কর্মসূচি। শুধু বসতবাড়িই নয়, বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্যও এই সংস্থার পক্ষ থেকে আধুনিক ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ বা শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থার সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তবে সৌর প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে ছাদটি যাতে ছায়ামুক্ত থাকে এবং পর্যাপ্ত রোদ পায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থা।
এই প্রসঙ্গে টাটা পাওয়ারের কার্যনির্বাহী আধিকারিক ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রবীর সিনহা বৃহস্পতিবার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিলের খরচ যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে, তেমনই পরিবেশ থেকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে রাজ্যে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শক্তির ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত