
জোধপুর, ১৭ অক্টোবর (হি.স.): আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (ইডব্লিউএস) সংরক্ষণের যোগ্যতার নিয়মে পরিবর্তন নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। তিনি জানান, এই নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্তরে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি বৈঠকও হয়েছে। তাঁর আশা, শীঘ্রই এই বিষয়ে কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে।
শনিবার জোধপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শেখাওয়াত বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করেছিলেন। ২০১৪-১৫ সালেও তিনি লোকসভায় এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন। তবে সংরক্ষণের জন্য বর্তমানে নির্ধারিত যোগ্যতার নিয়মে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলির প্রতি সুবিচার হচ্ছে না।
তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকার যে পরিবারগুলির জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিকাজ, কিংবা শহরে বসবাস করলেও যেসব পরিবারের আয় কৃষির উপর নির্ভরশীল, বর্তমান যোগ্যতার বিধানে তাদের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা হচ্ছে না।
শেখাওয়াত জানান, বিষয়টি সরকারের কাছে তোলা হয়েছিল। কিন্তু ‘ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’-র দায়ের করা বিশেষ অনুমতিমূলক আবেদন (এসএলপি) সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন সেই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় গোটা দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করবে। কয়েকটি রাজ্য অবশ্য বর্তমান নিয়মে পরিবর্তনের পক্ষে নয়। তাই সব দিক খতিয়ে দেখে সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে।
রাজস্থানি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিয়েও আশাবাদী
রাজস্থানি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে শেখাওয়াত বলেন, ১৯৯১ সাল থেকেই তিনি এই দাবির আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছেন। এটি রাজস্থানের মানুষের আত্মপরিচয় ও মর্যাদার প্রশ্ন। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ৩২টিরও বেশি প্রস্তাব এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে কাজ করছে। সরকারের স্তরে আলোচনা চলছে এবং শীঘ্রই সিদ্ধান্ত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
রাজস্থানি ভাষার স্বীকৃতির দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক স্তরে পাওয়া স্বীকৃতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শেখাওয়াতের দাবি, রাজস্থানি, ভোটি ও ভোজপুরি ভাষার বিশেষত্ব হল, ভারতের বাইরেও বিভিন্ন দেশে এগুলির পরিচিতি ও স্বীকৃতি রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নেপালে রাজস্থানি ভাষা, হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলিতে ভোটি এবং গিরমিটিয়া ভারতীয়দের মাধ্যমে একাধিক দেশে ভোজপুরি পরিচিতি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি ভাষাগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিকে আরও জোরালো করে।
পঞ্চায়েত নির্বাচনেও জয়ের আশা বিজেপির
রাজস্থানে আসন্ন পঞ্চায়েতি রাজ নির্বাচনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়ার প্রশ্নে শেখাওয়াত বলেন, বিজেপির কর্মীরা শুধু নির্বাচনের সময় সক্রিয় থাকেন না। তাঁরা পাঁচ বছর ধরেই সামাজিক দায়িত্ব পালন করেন, সংগঠনের বিস্তার ঘটান, সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করেন এবং দলের আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যান। নির্বাচনের সময় এই সমস্ত প্রচেষ্টাকে একত্রিত করে জয়ের লক্ষ্যে কাজ করা হয়।
তিনি বলেন, রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও তৃতীয় ইঞ্জিন যুক্ত করাই বিজেপির লক্ষ্য। শহরাঞ্চলে পুরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে দল ইতিমধ্যেই তৃতীয় ইঞ্জিন যুক্ত করেছে বলে দাবি করেন তিনি। শেখাওয়াতের দাবি, রাজস্থানের ৭০ শতাংশেরও বেশি পুরসভা ও নগর স্থানীয় সংস্থায় বিজেপির বোর্ড রয়েছে। আসন্ন পঞ্চায়েতি রাজ নির্বাচনেও প্রায় একই ধরনের ফল পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য