চোরবাগান সর্বজনীনের মর্মান্তিক ঘটনায় দায় কার, প্রশ্ন চিকিৎসক সংগঠনের
কলকাতা, ১৭ অক্টোবর (হি.স.): শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে চরম বিশৃঙ্খলার জেরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানি ও বহু দর্শনার্থীর আহত হওয়ার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ কর
চোরবাগান সর্বজনীনের মর্মান্তিক ঘটনায় দায় কার, প্রশ্ন চিকিৎসক সংগঠনের


কলকাতা, ১৭ অক্টোবর (হি.স.): শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে চরম বিশৃঙ্খলার জেরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানি ও বহু দর্শনার্থীর আহত হওয়ার এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছে রাজ্যের সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স।

সংগঠনের সম্পাদক ডাঃ উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় বহু মানুষের হতাহত হওয়ার খবরে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স, পশ্চিমবঙ্গ গভীর শোক ও একই সঙ্গে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

যে উৎসব মানুষের মিলন, আনন্দ ও সম্প্রীতির প্রতীক, সেই উৎসবের প্রাঙ্গণেই যদি মানুষের জীবন বিপন্ন হয়, যদি আনন্দের সন্ধ্যা পরিণত হয় কান্না, আতঙ্ক ও মৃত্যুর বিভীষিকায়, তবে সেই বিপর্যয়কে নিছক দুর্ঘটনা বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

কত মানুষের প্রাণ চলে গেল! মৃত ও আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে! আর কত পরিবারকে স্বজন হারানোর অসহনীয় যন্ত্রণা বহন করতে হবে! এই মুহূর্তে সব তথ্য স্পষ্ট নয়, কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট - মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় যাঁদের উপর ন্যস্ত, তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা আবশ্যক।

আমরা নিহতদের পরিবার-পরিজনকে জানাই আন্তরিক সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ আরোগ্য কামনা করি। আহত প্রত্যেকের যথাযথ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।

একইসঙ্গে এই চিকিৎসক সংগঠন একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, আমাদের স্পষ্ট প্রশ্ন - দায়ী কে?

১. পুলিশের ভূমিকা কী ছিল? বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও প্রস্থানের পৃথক ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি কি ছিল?

২. প্রশাসন কি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে? মণ্ডপের ধারণক্ষমতা, নিরাপদ বহির্গমনপথ, জরুরি পরিষেবা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যবস্থা কি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল?

৩. পুজো উদ্যোক্তাদের দায়বদ্ধতা কোথায়? দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড়ের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দ্রুত জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?

৪. নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে তার দায় কার? কোনও গাফিলতি, অব্যবস্থা বা কর্তব্যে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কি কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

এই প্রশ্নগুলি কাউকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করার জন্য নয়। এই প্রশ্নগুলি জনস্বার্থে, সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে এবং ভবিষ্যতে মানুষের প্রাণ রক্ষার স্বার্থে।

চিকিৎসক সংগঠনের তরফে দাবি জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত করতে হবে।

জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, পুলিশি প্রস্তুতি, প্রশাসনিক তদারকি এবং পুজো উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা-ব্যবস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে।

কর্তব্যে অবহেলা বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে দায়ী প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে - পদমর্যাদা বা প্রভাব নির্বিশেষে।

আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজ্যের সমস্ত বড় পুজো মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি বহির্গমনপথ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যবস্থার জরুরি পর্যালোচনা করতে হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছে, আমরা চাই না এই মর্মান্তিক ঘটনা কয়েক দিনের সংবাদ হয়ে হারিয়ে যাক। আমরা চাই না তদন্তের নামে কালক্ষেপ হোক, দায় চাপানোর খেলা চলুক কিংবা মানুষের মৃত্যু প্রশাসনিক ব্যর্থতার আড়ালে চাপা পড়ে যাক।

উৎসব মানুষের জন্য - মানুষের জীবন বিপন্ন করার জন্য নয়। কোনও পুজোর জাঁকজমক, কোনও উদ্যোক্তার প্রভাব, কোনও প্রশাসনিক আত্মপ্রশংসা মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হতে পারে না।

শোক আমাদের, ক্ষোভ আমাদের, কিন্তু জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়ও সমাজের।

চোরবাগানের প্রতিটি নিহত মানুষের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের স্পষ্ট দাবি - সত্য প্রকাশ করতে হবে, দায় নির্ধারণ করতে হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande