এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন দ্রুতগতির টর্পেডোর পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া
সিওল, ১৭ অক্টোবর (হি.স.): নৌসেনার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোনোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন দ্রুতগতির নির্ভুল নিশানাভেদী টর্পেডোর জলতলের পরীক্ষা চালিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি,
এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন দ্রুতগতির টর্পেডোর পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া


সিওল, ১৭ অক্টোবর (হি.স.): নৌসেনার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোনোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন দ্রুতগতির নির্ভুল নিশানাভেদী টর্পেডোর জলতলের পরীক্ষা চালিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই পরীক্ষা তাদের নৌসেনার আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)-র বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া ‘জ্যাম-২.০’ (Zaim-2.0) নামে একটি অতি দ্রুতগতির নির্ভুল নিশানাভেদী টর্পেডো অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা চালায়। অস্ত্রটির প্রযুক্তিগত উন্নতির কার্যকারিতা যাচাই করাই ছিল এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য। তবে টর্পেডোটির প্রকৃত গতি, আঘাত হানার দূরত্ব, নিশানার নির্ভুলতা এবং কার্যকরী সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি উত্তর কোরিয়া।

উত্তর কোরিয়ার আধিকারিকদের দাবি, এই অস্ত্রে লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করা এবং তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষায় অস্ত্রটির প্রপালশন ব্যবস্থা এবং রকেটচালিত প্রযুক্তির কার্যকারিতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ১৮০টিরও বেশি পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ‘জ্যাম-২.০’ একটি সুপারক্যাভিটেটিং টর্পেডো হতে পারে। এই ধরনের অস্ত্রের সামনের অংশের চারপাশে গ্যাসের বুদ্বুদ তৈরি করা হয়, যার ফলে জলের সঙ্গে ঘর্ষণ ও প্রতিরোধ কমে যায়। এর ফলে সাধারণ টর্পেডোর তুলনায় অনেক বেশি গতিতে চলতে পারে এই অস্ত্র।

তবে জলের তলায় অত্যন্ত বেশি গতিতে চলার সময় অস্ত্রটির দিক নিয়ন্ত্রণ করা, নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছনো এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। নতুন টর্পেডোর ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলি কতটা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি উত্তর কোরিয়া।

ক্যুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য সম্ভবত এআই-নিয়ন্ত্রিত দ্রুতগতির টর্পেডোর সক্ষমতা প্রদর্শন করা। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের অস্ত্রের গতিবিধি সময়মতো শনাক্ত করা এবং সেগুলি প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় যুদ্ধজাহাজগুলি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং-উ-ও মনে করেন, উত্তর কোরিয়া তার ডুবোজাহাজের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন টর্পেডো তৈরি করছে। তাঁর মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সক্ষমতার ব্যবধান কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে এই উদ্যোগ।

সাম্প্রতিক সময়ে নৌসেনার শক্তি বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার পিয়ংইয়ং পূর্ব সাগরে সম্ভবত ৩,০০০ টন ওজনের একটি ডুবোজাহাজ থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি ৫,০০০ টন ওজনের ‘চো হিয়ন’ ও ‘কাং কন’ নামের দুটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ নিজেদের নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানিয়েছে দেশটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-ভিত্তিক নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং দ্রুতগতির প্রপালশন প্রযুক্তির সমন্বয় উত্তর কোরিয়ার নৌসামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে নতুন টর্পেডোটির প্রকৃত সক্ষমতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা সম্পর্কে স্বাধীন মূল্যায়ন এখনও বাকি।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande