
চণ্ডীগড়, ১৮ অক্টোবর (হি.স.) : আগামী ২০ অক্টোবর পাঞ্জাব সফরে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সফরকালে তিনি মানসায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নিহত সমাজকর্মী পরবিন্দর সিং ঝোটার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি গুরুদাসপুরে বিক্রমজিৎ সিং এবং সঙ্গরুরে গুলজার সিংয়ের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করবেন। রবিবার চণ্ডীগড়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পাঞ্জাবের এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে তথ্য জানান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা রবনীত সিং বিটু।
বিটু জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০ অক্টোবর সারাদিন পাঞ্জাবে অবস্থান করবেন এবং মাদকের বলি হওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করবেন। গত এক মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এটি দ্বিতীয় পাঞ্জাব সফর। রাজ্যজুড়ে মাদকের মারাত্মক প্রসারের বিরুদ্ধে বিজেপির যে লড়াই ও সামাজিক আন্দোলন চলছে, এই সফর তারই অঙ্গ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর মানসায় মাদকের বিক্রির প্রতিবাদ করায় এক মেডিক্যাল স্টোরের মালিক প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে ঝোটাক। এর ঠিক দু'দিন পর, ১৫ অক্টোবর রাতে শ্রী হরগোবিন্দপুর সাহিব এলাকার মাড়ি পান্নাওয়াঁ গ্রামে একইভাবে মাদকের ব্যবসার প্রতিবাদ করায় নৃশংসভাবে খুন করা হয় বিক্রমজিৎ সিংকে। অন্যদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন সঙ্গরুরের বাসিন্দা গুলজার সিং। মৃত্যুর আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, গ্রামে ‘চিত্টা’ (মাদক) বিক্রির বিষয়ে তিনি স্থানীয় মন্ত্রী হরপাল সিং চিমার কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন, যার পর তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
প্রসঙ্গত, আগামী তিন মাসের মধ্যেই পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে বিজেপি ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ‘নেশামুক্ত পাঞ্জাব যাত্রা’ পরিচালনা করেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জলন্ধরে এই যাত্রার সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। সে সময় তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমগ্র পাঞ্জাবকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা হবে। সমাজকর্মী ঝোটার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, পাঞ্জাবে আমাদের সরকার গঠিত হলে রাজ্যকে মাদকমুক্ত, গ্যাংস্টারমুক্ত ও নিরাপদ করতে আমরা পূর্ণ শক্তিতে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—মাদকের কারবারে আঘাত হানা, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি