
কাঠমান্ডু, ২ অক্টোবর (হি.স.) : নেপালের রসুয়ার ভোটেকোশি নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে ত্রিশূলি ও নারায়ণী নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির দীর্ঘ ৩৮ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও বিপর্যয়ের মূল উৎসে পৌঁছাতে পারেনি নেপাল সরকারের তদন্তকারী দল। অথচ ঘটনার ঠিক পরদিনই ওই দুর্গম এলাকায় পৌঁছে যায় চিনের প্রতিনিধিদল। নিজের ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বেজিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কাঠমান্ডুকে।
বিপর্যয়ের উৎপত্তিস্থলে নেপালের সরকারি দল কেন পৌঁছাতে পারল না— এই প্রশ্নের জবাবে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রধান ডঃ ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, “আমরা এখনও সেখানে সশরীরে পৌঁছাতে পারিনি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার প্রয়োজন।” পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবেই যে সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি, ডঃ উপ্রেতি সে ইঙ্গিত দিলেও দাবি করেন যে চিন অনবরত এ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে চলেছে। তিনি বলেন, “চিনের প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছেছেন এবং তাঁরা আমাদের স্যাটেলাইট চিত্রসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করছেন। উচ্চমানের প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ায় আমাদের আর সশরীরে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না।” তিনি আরও জানান, সম্প্রতি নেপাল ও চিনের মধ্যে আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশি নদীতে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয় ত্রিশূলি ও নারায়ণী নদী। যার জেরে রসুয়া, নুয়াকোট, ধাডিং, গোর্খা, তানাহুন ও চিতওয়ানসহ একাধিক জেলায় বিপুল প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যায় এ পর্যন্ত ১,৪৫৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে ১,৩৩৪টি দেহ সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাটির নিচে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং ১১২টি দেহ শনাক্তকরণের পর স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১,৩৩০ জনের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তাঁদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে, ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা ও পুনর্গঠনের রূপরেখা তৈরির জন্য নেপাল সরকার একটি 'র্যাপিড ড্যামেজ অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্ট টিম' গঠন করেছিল। কিন্তু চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই বিশেষজ্ঞ দলটিও বিপর্যয়ের মূল উৎসে না গিয়েই তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।
কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন নেপালি টাকার প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাগুলির পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের জন্য আনুমানিক ৭ ট্রিলিয়ন ২৩ বিলিয়ন ৩১.৫ কোটি নেপালি টাকার প্রয়োজন হবে বলে হিসাব ধরা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / Sachin Budhauliya