
কমলপুর (ত্রিপুরা), ২৫ অক্টোবর (হি.স.) : কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর উৎসবমুখর দিনে মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এল কমলপুর শহর সংলগ্ন হাড়েরখলা এলাকায়। মাত্র আট বছর বয়সেই অকালে প্রাণ হারাল শিশু কন্যা সাগরিকা শব্দকর। রবিবার বিকেলে শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শিশুটির মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠলেও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার মতো তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সাগরিকার বাড়ি কুলাইয়ের ঘন্টাছড়া এলাকায়। তাঁর বাবা বিশ্বজিৎ শব্দকর। পরিবারের দাবি, গত প্রায় এক বছর ধরে সাগরিকা তাঁর মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে থাকছিল। বাবার বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে মা ও মেয়ে মামার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের বয়ান অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ দিন আগে মামার বাড়ির সামনে খেলতে গিয়েছিল সাগরিকা। সেই সময় একটি বানর তাঁকে ধাওয়া করলে সে পড়ে যায় বলে দাবি পরিবারের। এরপর থেকেই তাঁর জ্বর ও পায়ে ব্যথা শুরু হয়। শিশুটিকে কমলপুর হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে পায়ের হাড় সরে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের লোকজনের।
কিন্তু পাঁচ দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর রবিবার বিকেলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, হঠাৎ সাগরিকার রক্তবমি শুরু হয়। এরপরই তাঁর মৃত্যু হয়। আট বছরের শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সাগরিকার মৃত্যুকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। পাঁচ দিন আগে পড়ে যাওয়ার ঘটনা, পরবর্তী অসুস্থতা এবং রক্তবমির পর মৃত্যুর মধ্যে কোনও চিকিৎসাগত যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে পরিবারের তরফে যে অত্যাচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ। পারিবারিক বিবাদের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা জরুরি।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে যখন ঘরে ঘরে দেবী আরাধনা, প্রদীপের আলো আর উৎসবের আনন্দ, তখনই সাগরিকার মৃত্যুতে শোকের অন্ধকার নেমে এসেছে একটি পরিবারে। যে বয়সে তাঁর খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই তাঁর অকালপ্রয়াণ গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন পরিবারের পাশাপাশি এলাকার মানুষেরও প্রত্যাশা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ