
আগরতলা, ২৫ অক্টোবর (হি.স.) : কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে শব্দবাজির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুলিশ। মহারাজগঞ্জ বাজার সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক লক্ষাধিক টাকা মূল্যের শব্দবাজি উদ্ধার করল মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির পুলিশ। রবিবারের এই অভিযানে প্রতাপগড়ের রবীন্দ্রনগর, সাধুটিলা, সুভাষনগর এবং মহারাজগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫০ কেজিরও বেশি শব্দবাজি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বাজির আনুমানিক বাজারমূল্য এক লক্ষাধিক টাকা বলে জানিয়েছেন অভিযানের নেতৃত্বে থাকা মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির ওসি দীপঙ্কর দেব।
রবিবার শারদ পূর্ণিমা তথা কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। এই পুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাজি পোড়ানোর প্রচলন রয়েছে। তবে আনন্দ উদযাপনের আড়ালে শব্দবাজির দাপট জনস্বাস্থ্যের জন্য বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত শব্দ ও বায়ুদূষণের ফলে শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চরম অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি শব্দদূষণের প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও।
এই পরিস্থিতিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্ধারিত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী বাজির ব্যবহার রুখতে রাজ্যের সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। বাজি বিক্রি, মজুত এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায়। অভিযানে প্রতাপগড়ের রবীন্দ্রনগর, সাধুটিলা ও সুভাষনগর এলাকা সহ মহারাজগঞ্জ বাজারের একাধিক স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ শব্দবাজি উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া বাজির পরিমাণ ৫০ কেজির বেশি। বাজিগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য এক লক্ষাধিক টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির ওসি দীপঙ্কর দেব। তিনি জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি নির্দেশিকা কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। শব্দবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের এই নজরদারি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, শনিবারও সদর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে মহারাজগঞ্জ বাজার সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শব্দবাজি বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। পরপর দু’দিনের এই অভিযানে স্পষ্ট, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে সামনে রেখে শব্দবাজির বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন বাড়তি তৎপরতা গ্রহণ করেছে।
উৎসবের আনন্দ যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ না হয়ে ওঠে, সে লক্ষ্যেই শব্দবাজির বিরুদ্ধে এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শুধু অভিযান চালানোই নয়, নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সহযোগিতাও জরুরি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ