‘ভারত বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা বা নেপাল নয়, চাইলেই সরকার বদলানো যায় না’ - বিরোধীদের তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২৭ অক্টোবর (হি.স.) : খাড়গে ইস্যুকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস, ইন্ডিয়া জোট এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তাঁর কটাক্ষ, বিরোধীদের একমাত্র লক্ষ্য ক্ষমতা দখল করা এবং রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী প
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা


আগরতলা, ২৭ অক্টোবর (হি.স.) : খাড়গে ইস্যুকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস, ইন্ডিয়া জোট এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তাঁর কটাক্ষ, বিরোধীদের একমাত্র লক্ষ্য ক্ষমতা দখল করা এবং রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানো। দেশের সাধারণ মানুষের সমস্যা, উন্নয়ন কিংবা জনকল্যাণের চেয়ে গদির লড়াইয়েই তাঁরা বেশি ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিরোধীদের সরকার পরিবর্তনের রাজনীতি নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা কিংবা নেপাল নয় যে চাইলেই সরকার পরিবর্তন করে দেওয়া যাবে।

মঙ্গলবার নরসিংগড়ে একটি নার্সিং কলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাবাকে নিয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই খাড়গের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও একের পর এক কটাক্ষ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কংগ্রেস এবং বিরোধী দলগুলি কবে ক্ষমতার চেয়ারে বসবে, আর কবে রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করা যাবে, সেই চিন্তাতেই বিভোর হয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে তাঁদের কাছে কোনও সুস্পষ্ট নীতি ও আদর্শ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচনে বারবার পরাজয়ের মুখে পড়েও বিরোধীরা ক্ষমতা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের উদ্দেশে ‘আরশোলা পার্টি’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেও আক্রমণ শানান তিনি।

বিরোধীদের সরকার পরিবর্তনের ভাবনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতকে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা কিংবা নেপালের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। এখানে চাইলেই সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কৌশল ও সরকার পরিবর্তনের দাবি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। যদিও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত জনগণের ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।

এদিন রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি রাজনীতিতে সৌজন্য ও শালীনতা বজায় রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয়, নীতি কিংবা সরকারের কাজকর্ম নিয়ে বিরোধী ও শাসক দলের মধ্যে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু সেই বিতর্কে ব্যক্তিগত বিষয় কিংবা পরিবারের সদস্যদের টেনে এনে মন্তব্য করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যকে ঘিরে মন্তব্যের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে সংযম বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিক বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। মতাদর্শগত বিরোধীতা থাকলেও পারস্পরিক সম্মান ও শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।

এদিকে ইন্ডিয়া ব্লককে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, এই জোট কোনও নির্দিষ্ট নীতি কিংবা আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি। ক্ষমতা দখল এবং রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করার লক্ষ্যই তাঁদের রাজনৈতিক তৎপরতার প্রধান চালিকাশক্তি বলে দাবি করেন তিনি। বিরোধীদের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ও উন্নয়নের ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান এবং দেশের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবর্তে বিরোধীরা ক্ষমতার রাজনীতিতেই বেশি মনোযোগী। আর সেই কারণেই নির্বাচনে তাঁদের বারবার পরাজয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

খাড়গের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্কের আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে ঘিরে মন্তব্যের বিরোধীতা, অন্যদিকে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে সরাসরি আক্রমণ—দুই দিক থেকেই বিরোধীদের চাপে রাখার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখার প্রশ্নে তিনি সরব হলেও বিরোধীদের ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে আক্রমণের পথ থেকে সরে আসতে নারাজ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande