ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পুজো-পাস বিক্রির অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন
কলকাতা, ২৮ অক্টোবর ( হি.স.) : ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বুধবার হাজির হলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সল্টলেকের সিজিও ক
पूर्व मंत्री इंद्रनील सेन  का फाइल फोटो


কলকাতা, ২৮ অক্টোবর ( হি.স.) : ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বুধবার হাজির হলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের দফতরে। সঙ্গে তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথিও নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বহু কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এ দিন ইডির দফতরের বাইরে কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদেরও মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। তাঁদের উপস্থিতির কারণ অবশ্য স্পষ্ট হয়নি।

চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। এর আগে তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। তাঁর কসবার বাসভবন এবং সিঙ্গুরের খামারবাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশিও চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পর তদন্তকারী সংস্থার সমন মেনে বুধবার তিনি হাজিরা দেন।

এই মামলার সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগ থেকে। জয়দীপ মুখার্জি নামে এক ব্যক্তি ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে পুজো-পাস সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়। পরে আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ইডি। বুধবার ইন্দ্রনীল সেনের হাজিরার সময় সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের উপস্থিতি নজরে এলেও, তাঁরা কী কারণে সেখানে ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

গ্রেফতারের আশঙ্কায় ইন্দ্রনীল সেন কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখান থেকেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্বস্তি মেলেনি। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানির কথা থাকলেও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। ফলে মামলার শুনানি নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতেই ইডির সামনে হাজিরা দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ইডির অনুমান, এই আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং বিশেষ প্রবেশের নামে তথাকথিত জাল টিকিট ও পাস বিক্রি করে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই অভিযোগে ইন্দ্রনীল সেনের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মধুচন্দা সেনের নামও উঠে এসেছে। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর গঠিত ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে মধুচন্দা সেন যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

ইডির দাবি, ওই সংগঠনকে কেন্দ্র করেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সূত্র তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, প্রচারে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে আয়োজকদের সঙ্গে ইউনেস্কোর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানটির জন্য ইউনেস্কোর অনুমোদন রয়েছে। যদিও ইউনেস্কো এ ধরনের কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি করেনি বলে দাবি তদন্তকারীদের।

তদন্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম

এই মামলার তদন্তে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, অভিযুক্ত ইন্দ্রনীল সেনের ফাউন্ডেশন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল।

ইডির দাবি, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। পরে ওই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই লেনদেনের বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য, ওই অর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রয়্যালটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ এবং অভিযুক্তের বক্তব্য—দুইয়ের মধ্যে এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়েই এখন তদন্ত চলছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ




 

 rajesh pande