চা বাগানের ১২০০ একর জমি বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে শ্রম কমিশনারের দফতরে বিক্ষোভ
আগরতলা, ২৮ অক্টোবর (হি.স.) : রাজ্যের চা বাগানগুলিকে বেসরকারিকরণের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হল সিআইটিইউ অনুমোদিত ত্রিপুরা টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের অধীন সমবায় ও অন্যান্য চা বাগানের প্রায় ১২০০ একর জমি বেসরকারি মালিক
শ্রমিক বিক্ষোভ


আগরতলা, ২৮ অক্টোবর (হি.স.) : রাজ্যের চা বাগানগুলিকে বেসরকারিকরণের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হল সিআইটিইউ অনুমোদিত ত্রিপুরা টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের অধীন সমবায় ও অন্যান্য চা বাগানের প্রায় ১২০০ একর জমি বেসরকারি মালিকানার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার শ্রম কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সংগঠনটি। পাশাপাশি নিজেদের দাবিদাওয়া জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশনও প্রদান করা হয়।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাম বিধায়ক নয়ন সরকার, ত্রিপুরা টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক পরেশ পাইথেম, বাম নেতৃত্ব তপন দাস-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে চা বাগানের জমি বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করা হয়। সংগঠনের বক্তব্য, চা বাগানগুলির জমি বেসরকারি মালিকানার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। তাই এই সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের চা বাগানগুলিতে কর্মরত শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সমস্যা ও বঞ্চনার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের মজুরি বৃদ্ধি হচ্ছে না। পাশাপাশি গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) সংক্রান্ত সুবিধা প্রদান নিয়েও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে চা বাগানের জমি বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।

এদিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পরেশ পাইথেম বলেন, রাজ্যের চা বাগানের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নানা জ্বালা-যন্ত্রণা ও সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। তাঁদের ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। গ্র্যাচুইটি এবং পিএফ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুবিধা থেকেও শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকারের আমলে চা বাগানের শ্রমিকরা তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের অধীন সমবায় ও অন্যান্য চা বাগানকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, চা বাগানের জমি বেসরকারি মালিকানার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটি ও পিএফ-সহ তাঁদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়। শ্রমিকদের স্বার্থ ও জীবিকার নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি, সরকার অবিলম্বে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে ত্রিপুরা টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। শ্রমিকদের অধিকার ও চা বাগানের জমি রক্ষার দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিনের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজ্যের চা বাগানগুলির জমির ভবিষ্যৎ, শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও শ্রমিক মহলে বিতর্কের আবহ তৈরি হল।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande