
কলকাতা, ২৮ অক্টোবর (হি. স.) : রাজ্যে বড় মাপের শিল্প বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নতুন শিল্পনীতি অনুমোদন করল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা। বুধবার বিকেলে নবান্নে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর নবান্নের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
স্বচ্ছ জমি বরাদ্দ, বিনিয়োগে উৎসাহদানের কাঠামো এবং বিদ্যুতের শুল্কে ভর্তুকি—নতুন শিল্পনীতির মূল লক্ষ্য এই তিন ক্ষেত্রকে ঘিরেই। রাজ্যকে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের শিল্পপতিদের কাছে একটি ‘প্রধান বিনিয়োগ কেন্দ্র’ এবং ‘পছন্দের শিল্প গন্তব্য’ হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে মন্ত্রীগোষ্ঠীর (জিওএম) কাছ থেকেও নীতিটি অনুমোদন পেয়েছিল।
নতুন নীতিতে বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোগীরা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। তবে সরকারের লক্ষ্য শুধু আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা নয়; শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাও নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এত দিন রাজ্যে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের একাধিক দফতরের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হত। পরিবেশগত ছাড়পত্র, জমির চরিত্র পরিবর্তন, জমির শ্রেণিবিন্যাস সংশোধন, বাণিজ্যিক লাইসেন্স এবং নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই পৃথক দফতরের দ্বারস্থ হতে হত তাঁদের। এই জটিলতা কমিয়ে এক জানালা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার সুযোগ সহজ করাই নতুন নীতির অন্যতম লক্ষ্য।
নীতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জমি, বিদ্যুৎ ও আর্থিক সুবিধার উপর। শিল্পের জন্য বড় এবং সংলগ্ন জমি পাওয়া দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে জমি কেনার ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে শিল্পোদ্যোগীদের। এই সমস্যা মেটাতে জমি বরাদ্দের নীতি ও নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি, হুগলি জেলার হিন্দমোটর ও সিঙ্গুর এবং হাওড়া জেলার ডোমজুড় এলাকায় শিল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট জমি বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্যও একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা নতুন শিল্পনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বুধবার মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন ৫ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার দিকে নজর শিল্পমহলের। ওই দিন নতুন নীতির বিস্তারিত বিধান প্রকাশ্যে এলে জমি বরাদ্দ, আর্থিক প্রণোদনা, বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং প্রশাসনিক ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে কী কী সুবিধা মিলবে, তা স্পষ্ট হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ