
ঝাড়গ্রাম, ৫ অক্টোবর (হি.স.) :
ভূমিজ ভাষার সরকারি স্বীকৃতি প্রদান এবং পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ভূমিজ ভাষা উন্নয়ন পর্ষদ তথা বোর্ড পুনর্গঠনসহ একাধিক সুনির্দিষ্ট দাবিতে সোচ্চার হলো ভূমিজ সমাজ। 'ভূমিজ ভাষা দিবস' উপলক্ষে সোমবার ঝাড়গ্রাম শহরে এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রা, ধর্না অবস্থান ও স্মারকলিপি প্রদান (ডেপুটেশন) কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 'ভারতীয় আদিবাসী ভূমিজ সমাজ' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ভূমিজ ভাষা উন্নয়ন পর্ষদ'-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিন সকালে ঝাড়গ্রামের ঐতিহাসিক পাঁচমাথা মোড় থেকে কর্মসূচির সূচনা হয়। সেখানে আগত অতিথিদের আনুষ্ঠানিক বরণের পর হাতে বিভিন্ন দাবিসম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে পদযাত্রায় শামিল হন ভূমিজ সমাজের শতাধিক মানুষ। পদযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান পথ অতিক্রম করার সময় চুয়াড় বিদ্রোহের অমর শহিদ রঘুনাথ সিংহের পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর প্রতিনিধি দল জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে জেলা প্রশাসনের হাতে এক স্মারকলিপি তুলে দেয়। পরবর্তীতে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরেও একটি পৃথক ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়।
দফতরে ডেপুটেশন পর্ব শেষে পুনরায় পাঁচমাথা মোড়ের মূল মঞ্চে ফিরে এসে ধর্না অবস্থান শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই ধর্না কর্মসূচিতে বক্তারা ভূমিজ ভাষার সরকারি স্বীকৃতি এবং এই ঐতিহ্যবাহী ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জরুরি প্রয়োজনের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। কর্মসূচির শেষ পর্বে মনোগ্রাহী ভূমিজ লোকসংস্কৃতির নানা পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
'ভারতীয় আদিবাসী ভূমিজ সমাজ'-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক নিত্যলাল সিংহ এই প্রসঙ্গে বলেন, “২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর ঝাড়খণ্ড সরকার ভূমিজ ভাষাকে সেই রাজ্যের দ্বিতীয় রাজভাষার মর্যাদা দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ স্মরণীয় করে রাখতেই প্রতি বছর ৫ অক্টোবর ভূমিজ ভাষা দিবস পালন করা হয়। আমাদের স্পষ্ট দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও অবিলম্বে ভূমিজ ভাষাকে সরকারি রাজ্যভাষার স্বীকৃতি দিতে হবে।”
সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভূমিজ ভাষার নিজস্ব লিপি হলো ‘অল অনল’, যা ১৯৯২ সালে ওড়িশার মহেন্দ্রনাথ সরদার আবিষ্কার করেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— পশ্চিমবঙ্গে ভূমিজ ভাষাকে সরকারি রাজ্যভাষার মর্যাদা প্রদান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গঠিত ভূমিজ বোর্ড পুনরুজ্জীবিত করা এবং পৃথক সাংস্কৃতিক অ্যাকাডেমি ও পর্ষদ গঠন করা। আন্দোলনকারীদের বিশ্বাস, সরকারি স্বীকৃতি মিললে শিক্ষা, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এই ভাষার ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে, যা তাঁদের স্বকীয় ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই সংগঠন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো