(রাউন্ড আপ ) উপনির্বাচনে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৭৬ থেকে ৮৩.৮৬ শতাংশ ভোট,মাদুরান্তকমে সর্বাধিক, নগাঁওয়ে সর্বনিম্ন ভোটদানের হার
নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর (হি. স.) : দেশের তিন রাজ্য, একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং অসমের নগাঁও লোকসভা আসন-সহ ছ’টি আসনে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৫ট
উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ


নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর (হি. স.) : দেশের তিন রাজ্য, একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং অসমের নগাঁও লোকসভা আসন-সহ ছ’টি আসনে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ছ’টি আসনেই ৭৬ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। তামিলনাড়ুর মাদুরান্তকম বিধানসভা কেন্দ্রে সর্বাধিক ৮৩.৮৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৭৬ শতাংশ ভোটদানের হার নথিভুক্ত হয়েছে।

নির্বাচন আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মাদুরান্তকমে ৮৩.৮৬ শতাংশ, ধারাপুরমে ৭৮.৫৩ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। পুদুচেরির ঠাট্টানচাভড়িতে ভোটদানের হার ৭৮.৮৩ শতাংশ। অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৭৬ শতাংশ।

দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নগাঁওয়ে ৭০.২৫ শতাংশ, ঠাট্টানচাভড়িতে ৬৮.৯১ শতাংশ, মাদুরান্তকমে ৭০.৩১ শতাংশ এবং ধারাপুরমে ৬৮.০৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগরে ৬৯.২৯ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে ৭১.৭৯ শতাংশ ভোটার তখন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রে ৫৬.৩৫ শতাংশ, ঠাট্টানচাভড়িতে ৫৬.২৭ শতাংশ, মাদুরান্তকমে ৫৫.১৯ শতাংশ, ধারাপুরমে ৫৬.০৯ শতাংশ, রেজিনগরে ৫৬.৪৩ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে ৬০.৩২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৪৩.৯৫ শতাংশ, রেজিনগরে ৩৮.৭১ শতাংশ, নগাঁওয়ে ৩৭.৮২ শতাংশ, ঠাট্টানচাভড়িতে ৩৯.১৬ শতাংশ, মাদুরান্তকমে ৩৫.৫৫ শতাংশ এবং ধারাপুরমে ৩৭.২৮ শতাংশ ভোটদানের খবর পাওয়া যায়।

সকালের শুরু থেকেই ভোটগ্রহণে গতি ছিল। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ২০.৮৯ শতাংশ, রেজিনগরে ১৮.০৫ শতাংশ, নগাঁওয়ে ১৭.৬৮ শতাংশ, ঠাট্টানচাভড়িতে ১৯.২০ শতাংশ, মাদুরান্তকমে ১৫.৯৯ শতাংশ এবং ধারাপুরমে ১৭.৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। পুদুচেরির ঠাট্টানচাভড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ২৭ হাজার ভোটারের জন্য ৩১টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছিল। সেখানে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।

অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির দেবাশিস শর্মা, কংগ্রেসের শিবামণি বোরা এবং এআইইউডিএফ সভাপতি বদরুদ্দিন আজমলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৯,০১,৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯,৫৮,৫৪৯, মহিলা ৯,৪৩,৩০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫০ জন। আটটি বিধানসভা এলাকার জন্য মোট ২,৩০৭টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছিল। ভোট পরিচালনা ও নিরাপত্তার কাজে প্রায় ১১,৫৩৫ জন ভোটকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিলেন। কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ পদত্যাগ করায় নগাঁও আসনটি শূন্য হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির হাসিরানি রথ, কংগ্রেসের মিলন প্রধান এবং বামফ্রন্টের হয়ে সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নন্দীগ্রামে মোট ২৮২টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৩৭ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়।

মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির শঙ্করাও সরকার, তৃণমূল কংগ্রেসের একটি গোষ্ঠীর রাবিউল আলম চৌধুরী এবং এজেয়ুপির গোলাম নবী আজাদ প্রার্থী হয়েছেন। গোলাম নবী আজাদ হুমায়ুন কবীরের ছেলে। রেজিনগরে ৩১৫টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছিল এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা ছিল। নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩৪ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর মিলিয়ে মোট ৫৯৭টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিং এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৭১ কোম্পানি মোতায়েন ছিল। হুমায়ুন কবীর পদত্যাগ করায় রেজিনগর আসনটি শূন্য হয়েছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর থেকে পদত্যাগ করেন।

তামিলনাড়ুর সংরক্ষিত মাদুরান্তকম বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ২,১৩,৭৮৮ জন। এখানে ২৮৫টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছিল। নিরাপত্তার জন্য ২,৬১৪ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৪৮০ জন সিআইএসএফ জওয়ান। ২৩টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই কেন্দ্রে মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন টিভিকে-র কে. মরগত্থম কুমারভেল, ডিএমকের আই. পরন্থামেন, এআইএডিএমকের কনিতা সম্পত এবং সিপিআইএমের পি. সুগন্ধি। এআইএডিএমকে বিধায়ক মরগত্থম কুমারভেল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। পরে তিনি টিভিকেতে যোগ দেন এবং ওই দলের প্রার্থী হয়েছেন।

দ্বিতীয় সংরক্ষিত কেন্দ্র ধারাপুরমে মোট ভোটার ২,২৩,২৪৭ জন। সেখানে ৩২০টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছিল এবং প্রায় ৩,৫০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন। ১৮টি কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর ঘোষণা করা হয়েছিল। টিভিকে প্রাক্তন এআইএডিএমকে বিধায়ক পি. সত্যবামাকে প্রার্থী করেছে। ডিএমকের প্রার্থী এস. সুগন্যা, এআইএডিএমকের কে. ভানুমতী এবং ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী পি. লক্ষ্মণন।

মাদুরান্তকম ও ধারাপুরম—দুই আসনই এআইএডিএমকে বিধায়কদের পদত্যাগের পর শূন্য হয়েছিল। দুই কেন্দ্রে মিলিয়ে মোট ভোটার ৪,৩৭,০৩৫ জন এবং ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৬০৫।

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির ঠাট্টানচাভড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এআইএনআরসির অশোক আনন্দ, কংগ্রেসের ই. বিনয়গম, ডিএমকের কে. সেতু সেলভম এবং সিপিআইয়ের এ. মহম্মদ সেলিম। কংগ্রেস প্রার্থীকে টিভিকে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে এআইএনআরসি প্রার্থী বিজেপি ও এআইএডিএমকের সমর্থন পেয়েছেন। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২৬,৯২১ জন। মুখ্যমন্ত্রী এন. রঙ্গস্বামী পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়েছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ঠাট্টানচাভড়ি ও মঙ্গলম—দুই আসনে জয়ী হন। পরে মঙ্গলম আসনটি রেখে ঠাট্টানচাভড়ি থেকে পদত্যাগ করেন।

এই উপনির্বাচনে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন গোষ্ঠী, দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (ডিএমকে), তামিলগা ভেত্রি কাঝাগম (টিভিকে), এআইএডিএমকে, বাম দল, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) এবং অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস (এআইএনআরসি)-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অধিকাংশ আসনই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগের কারণে শূন্য হয়েছিল। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন সকলের নজর ভোটগণনার দিকে। আগামী ৯ অক্টোবর ভোটগণনা হবে। ওই দিন নগাঁও লোকসভা এবং পাঁচটি বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশিত হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande