





- সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত করঞ্জায় স্মৃতি ভবন এবং বালাসাহেব দেওরস নেত্রালয় উদ্বোধন করেন
বালাঘাট, ৬ অক্টোবর (হি.স.): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সরসঙ্ঘচালক ড. মোহন ভাগবত বলেছেন, যেখানে প্রত্যক্ষভাবে কাজ হচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত কথা বলার কোনও প্রয়োজন নেই। ভাষণের চেয়ে কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বালাসাহেব দেওরস এবং ভাওরাও দেওরসের সমগ্র জীবনটাই দেশসেবায় নিবেদিত ছিল।
সরসঙ্ঘচালক ড. ভাগবত মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার লাঞ্জি এলাকার অন্তর্গত করঞ্জা গ্রামে বালাসাহেব ও ভাওরাও দেওরস স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন এবং মাধব নেত্রালয়ের চক্ষু চিকিৎসা ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সূচনা অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। এই উপলক্ষে তিনি সংঘের তৃতীয় সরসঙ্ঘচালক বালাসাহেব দেওরস এবং জ্যেষ্ঠ প্রচারক ভাওরাও দেওরসের পৈতৃক ভিটে করঞ্জায় নবনির্মিত ভাওরাও দেওরস স্মৃতি ভবন ও বালাসাহেব দেওরস নেত্রালয়ের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ড. ভাগবত বালাসাহেব দেওরস ও ভাওরাও দেওরসের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন।
ভারতের মাটিতে রয়েছে সেবা ও করুণার মূল্যবোধ
করঞ্জায় সরসঙ্ঘচালক ড. ভাগবত বলেন, ভারতের মাটি ও সংস্কৃতিতেই সেবা ও করুণার সংস্কার রয়েছে। তিনি বলেন, বিগত ২০০ বছরে ভারতে যত মহামানব জন্মগ্রহণ করেছেন, সারা বিশ্বের ইতিহাসে তা কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, অন্যের দুঃখে ভারতীয়দের চোখ ছলছল করে ওঠে, এটা ভারতীয় সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই অনুভূতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে অন্যের জন্য কিছু করার প্রবণতা আমাদের জীবনের মূল মূল্যবোধের মধ্যেই রয়েছে।
তিনি বিমান যাত্রীদের প্রাণ রক্ষাকারী ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের জীবনের পরোয়া না করে যাত্রীদের বাঁচাতে বিমান চালিয়ে যান। এটিকে তিনি ভারতীয় সংস্কারে সহজাত ত্যাগ ও অন্যের প্রতি উৎসর্গের চেতনার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সরসঙ্ঘচালক বলেন, সংঘ মানুষের গুণগত মান উন্নয়নের কাজ করে। মানুষের মধ্যে সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষমতার পাশাপাশি মাতৃভূমির প্রতি ভক্তি ও সমাজসেবার অনুভূতি জাগ্রত করা হয়। সংঘ সবাইকে নিজের মনে করে সেবা করার অভ্যাস গড়ে তোলে। স্বয়ংসেবকের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বয়ংসেবক হলেন তিনি, যিনি কোনও প্রতিদান আশা না করে সেবা করার উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, সংঘে এমন মানুষ তৈরি করা হয় যারা পরবর্তীতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেন, কিন্তু সংঘ তাদের কাজের কৃতিত্ব নিজের নামে নেয় না। তিনি বলেন, বালাসাহেব দেওরসকে নিয়ে সারা বিশ্বে আলোচনা হতো, তাও তিনি সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করতেন। তিনি ছিলেন ভারতের সেবক।
দেওরস ভাইদের জীবন স্মরণ
ড. ভাগবত বালাসাহেব দেওরস ও ভাওরাও দেওরসের জীবন ও কর্মকাণ্ড স্মরণ করে বলেন, তাঁদের উভয়ের জীবনই রাষ্ট্র ও সমাজের সেবায় নিবেদিত ছিল। করঞ্জায় নির্মিত স্মৃতি ভবনটি তাঁদের জীবন, চিন্তাভাবনা ও সেবা কাজের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বালাসাহেব দেওরস নেত্রালয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ ও জনজাতি এলাকার মানুষের জন্য চক্ষু চিকিৎসার সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক বক্তব্যে ট্রাস্টের সহ-সভাপতি অরবিন্দ মার্ডিকর প্রয়াত বালাসাহেব ও ভাওরাও দেওরসের জীবনকৃতি এবং করঞ্জা গ্রামের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের বিবরণ দেন। তিনি ভাইয়াজি জোশীর নির্দেশনায় দেওরস ভাইদের স্মৃতি সংরক্ষণে বিগত ৩০ বছর ধরে চলে আসা সেবা কাজের ওপরও আলোকপাত করেন।।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ