
চণ্ডীগড়, ৬ অক্টোবর (হি.স.) : পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের দফতর ঘিরে ওঠা কথিত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চণ্ডীগড়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাম্প অফিস-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় সিবিআই। পাশাপাশি, দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের আত্মীয় অমরদীপ সিং গ্রেওয়ালকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
পঞ্জাব-হরিয়ানা হাই কোর্ট সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পরই মঙ্গলবার তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা শুরু হয়। পঞ্জাব সরকার অবশ্য হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চণ্ডীগড়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাম্প অফিসে সিবিআইয়ের দল পৌঁছয়। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আধিকারিক রাজবীর সিং ঘুমনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন জায়গাতেও তল্লাশি চালানো হয়। একাধিক জায়গায় রাত পর্যন্ত এই তল্লাশি চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয় অমরদীপ সিং গ্রেওয়ালকেও তলব করেছে ইডি। একটি কথিত পাঁচ কোটি টাকার ঘুষের দাবির অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। ওই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. গুরপ্রীত কৌরের নামও উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সিবিআইয়ের তল্লাশির পর মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং তাঁকে ও তাঁর সরকারকে বদনাম করতে ইডি ও সিবিআইকে ব্যবহার করা হতে পারে। মান দাবি করেন, তাঁর প্রতি মানুষের সমর্থন দেখে বিজেপি উদ্বিগ্ন।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করতে শুরু করেছে। রাজ্যে ‘সৎ মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে ভগবন্ত মানের প্রচার চালাতে লাগানো বিভিন্ন বোর্ড ও হোর্ডিংকেও বিরোধীরা রাজনৈতিক ইস্যু করেছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য