
আগরতলা, ৬ অক্টোবর (হি.স.): টিটিএএডিসি-র অন্তর্গত ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে বড়সড় সাফল্য পেল তিপ্রা মথা পার্টি। সোমবার রাজ্যের ৪৪টি ভোট গণনা কেন্দ্রে ৪৫টি গণনা হলে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। ঘোষিত ফলাফলে তিপ্রা মথা পার্টি ৩,৪২৮টি আসনে জয়লাভ করে এবং মোট ৪৫৭টি ভিলেজ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপি ৮৫৯টি আসনে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি ৯৪টি ভিলেজ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
এদিকে নির্দল প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে। নির্দল প্রার্থীরা মোট ১৭৩টি আসনে জয়ী হয়ে ৩১টি ভিলেজ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। সিপিআই (এম) ৮৭টি আসনে জয়ী হয়ে দুটি ভিলেজ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। আইপিএফটি ৩৩টি আসনে জয়লাভ করে দুটি ভিলেজ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৪টি আসনে জয়ী হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচনের ফলাফল ও ভোটদানের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ডঃ পিকে চক্রবর্তী। তিনি জানান, টিটিএএডিসি এলাকার অন্তর্গত মোট ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮০৮ জন সাধারণ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর পাশাপাশি ইডিভি ভোটার ছিলেন ৬,৬২৮ জন। সব মিলিয়ে ভোট দিয়েছেন ৫ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৩৬ জন। ভোটদানের সামগ্রিক হার দাঁড়িয়েছে ৮১.২৯ শতাংশ।
ভোটের হিসাব অনুযায়ী, তিপ্রা মথা পার্টি পেয়েছে ৪৬.৭৬ শতাংশ ভোট। বিজেপির ভোটের হার ২৮ শতাংশ। সিপিআই (এম) পেয়েছে ১২.৯০ শতাংশ ভোট। নির্দল প্রার্থীদের সম্মিলিত ভোটের হার ৭.৭৪ শতাংশ। আইপিএফটি পেয়েছে ২.৭৪ শতাংশ ভোট। কংগ্রেসের ভোটের হার সম্পর্কিত কমিশনের প্রদত্ত তথ্যে ১.৮৬ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, মোট তিনটি আসনের জন্য কোনও মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি। ফলে ওই আসনগুলিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ফলাফলকে টিটিএএডিসি এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ৪৫৭টি ভিলেজ কমিটিতে তিপ্রা মথার সংখ্যাগরিষ্ঠতা দলটির সাংগঠনিক শক্তিরই প্রতিফলন বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। অন্যদিকে ৯৪টি কমিটিতে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা দলটির উপস্থিতিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি ৩১টি ভিলেজ কমিটিতে নির্দলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্থানীয় রাজনীতিতে নির্দল প্রার্থীদের প্রভাবের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
নির্বাচন কমিশনার ডঃ প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী ভোট গণনা সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ভোটার, জেলা নির্বাচন আধিকারিক, সমস্ত রিটার্নিং অফিসার, সেক্টর অফিসার, ভোট গণনাকর্মী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিক ও আরক্ষা কর্মীদের অভিনন্দন জানান। ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও তিনি ধন্যবাদ জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ