খয়েরপুর-কমলপুরে রাজনৈতিক হিংসা বরদাস্ত নয়, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
বিরোধীদের মনোনয়ন জমায় বাধা দেওয়া যাবে না, বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক


আগরতলা, ১ নভেম্বর (হি.স.) : আসন্ন পুর ও নগর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খয়েরপুর ও কমলপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। রাজনৈতিক হিংসা ও বাধাদানের ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, বিজেপির কেউ এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁকেও রেহাই দেওয়া হবে না। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

শনিবার আগরতলায় বিজেপির প্রদেশ কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া জানান। আসন্ন আগরতলা পুরনিগম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরপরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে খয়েরপুর ও কমলপুরের ঘটনাকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

খয়েরপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবাদপত্রে তিনি বিষয়টি দেখেছেন। ঘটনাটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “খয়েরপুরের ঘটনাটা কোনও অবস্থায় মানা যায় না। যদি প্রকৃত অর্থে এরকম হয়ে থাকে, তাহলে যথাযথ তদন্ত হোক এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

একই সঙ্গে কমলপুরের ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ এখনও তাঁর কাছে নেই। তবে বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত খোঁজখবর নেবেন। দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের দলের কেউ যদি এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তাকে কোনও অবস্থাতেই রেহাই দেওয়া হবে না।” রাজনৈতিক হিংসা বা অন্যায়ের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়কে গুরুত্ব না দিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, আসন্ন পুর নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। বিশেষ করে রামনগরে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রাখায় সিপিআইএম প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা অভিযোগ করতেই পারে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে যেন বাধা দেওয়া না হয়।

বিরোধীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতীতের বাম আমলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বাধাদানের সংস্কৃতি চলেছে। ফলে অনেককে বোঝানোর পরেও অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে যাচ্ছে। তবে পুর নির্বাচনে যাতে সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। অবাধে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে দলের নির্দেশের কথাও পুনরায় উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে, পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার বিজেপির প্রদেশ কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলের পদাধিকারীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নতুন প্রদেশ প্রভারীর উদ্যোগে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরামর্শ অনুযায়ী দলের পদাধিকারীদের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি আরও সুসংহত করাই এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন পুর নির্বাচনের জন্য বিজেপি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি এগিয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে দল। ফলে প্রদেশ কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

একদিকে খয়েরপুর ও কমলপুরের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে বিরোধীদের মনোনয়ন জমায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে আসন্ন পুর নির্বাচনকে ঘিরে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande