
হুগলি, ২ নভেম্বর (হি.স.) :
মারণ চীনা মাঞ্জার সুতোয় ফের বড়সড় দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল ব্যান্ডেল। সোমবার ব্যান্ডেলের শরৎ সরণিতে ঘুড়ির ধারালো চীনা মাঞ্জার সুতোয় গলা কেটে গুরুতর জখম হলেন এক বাইক চালক। অল্পের জন্য নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পেলেও মারাত্মক এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। চালককে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত ওই বাইক চালকের নাম হারাধন আচার্য। তালডাঙা এলাকার বাসিন্দা হারাধনবাবু পেশায় একজন পুরোহিত। এদিন তিনি চুঁচুড়া থেকে বাইক চালিয়ে ব্যান্ডেলের দিকে যাচ্ছিলেন। শরৎ সরণির জি টি রোডের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই রাস্তার ওপর আড়াআড়িভাবে ঝুলে থাকা একটি ঘুড়ির অদৃশ্য সুতো তাঁর নজরে আসেনি। চলন্ত অবস্থায় সেই সুতো সজোরে তাঁর গলায় জড়িয়ে যায়। ধারালো চিনা মাঞ্জার মারাত্মক কোপে মুহূর্তের মধ্যে তাঁর গলায় গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং গলগল করে রক্তপাত শুরু হয়।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আহত বাইকের ঠিক পেছনে থাকা এক স্কুটার চালকও বাইক থামিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর পড়ে থাকা বিপজ্জনক মাঞ্জার সুতোটি দ্রুত জড়িয়ে সরিয়ে নেন। উপস্থিত বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণেই এ যাত্রায় আরও বড় কোনো অনভিপ্রেত বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত হারাধন আচার্য বলেন, আমি ব্যান্ডেলের দিকে যাচ্ছিলাম। বাইক চালানোর সময় হঠাৎ গলায় তীব্র টান ও জ্বালা অনুভব করি। প্রথমে বুঝতে পারিনি যে গলা কতটা গভীর হয়ে কেটে গিয়েছে। এই সুতোয় যে এতখানি ধার হতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারছি না। অন্যদিকে, লাগাতার নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও এই বিপজ্জনক মাঞ্জার সুতো ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রত্যক্ষদর্শী স্কুটার চালক বলেন, মানুষ কবে সচেতন হবে?
উল্লেখ্য, চিনা মাঞ্জার সুতোয় ঘটে চলা এই জাতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রুখতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ এই সুতো কেনাবেচার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান ও ধরপাকড় জারি রাখা হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলায় সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ সাঁতরা