মণিপুরী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গোপালজি মণিপুরী কলাক্ষেত্রের উদ্যোগ
আগরতলা, ২ নভেম্বর (হি.স.) : মণিপুরী সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করল শ্রীশ্রী গোপালজি মণিপুরী কলাক্ষেত্র। সোমবার কলাক্ষেত্রের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ
মণিপুরী সমাজের অনুষ্ঠান


আগরতলা, ২ নভেম্বর (হি.স.) : মণিপুরী সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করল শ্রীশ্রী গোপালজি মণিপুরী কলাক্ষেত্র। সোমবার কলাক্ষেত্রের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রানিরবাজারের বৃদ্ধিনগর মণিপুরী এলাকায় এই মণিপুরী নৃত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী সংস্কৃতির প্রচার, প্রসার এবং পরম্পরাকে অক্ষুণ্ণ রাখাই ছিল এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা কালচার অ্যাডভাইজারি বোর্ডের সদস্য সেনাম দীপক কুমার সিংহ, সমাজসেবী রাজেশ ভুবী এবং অমর ঘোষ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের বিশিষ্ট মৃদঙ্গ বাদক রঞ্জিত শর্মা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক উৎসবে মণিপুরী সমাজের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক পরম্পরাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, রাজ্যের দুই বিশিষ্ট মৃদঙ্গ বাদককে তাঁদের দীর্ঘদিনের শিল্পসাধনা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে মণিপুরী সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিধায়ক রতন চক্রবর্তী মণিপুরী সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কলাক্ষেত্রের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে ধরে রাখার জন্য যাঁরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ভারতবর্ষের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে মণিপুরী সমাজের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কেবল অতীতের স্মারক নয়, বরং তা একটি সমাজের পরিচয় ও আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে গোপালজি মণিপুরী কলাক্ষেত্রের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

এদিন বিধায়ক কলাক্ষেত্র ও মন্দিরের উন্নয়নে এবং মণিপুরী সমাজের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নিজের বিধায়ক তহবিল থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আগামী দিনেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং মণিপুরী সমাজের বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে গোটা বৃদ্ধিনগর মণিপুরী এলাকায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এমন উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিতরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande