
আগরতলা, ২ নভেম্বর (হি.স.) : আলোর উৎসব দীপাবলিকে সামনে রেখে বাজারে মোমের চাহিদা বাড়লেও প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারছেন না রাজ্যের সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত মোম প্রস্তুতকারকরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন বাড়িঘরে ছোট ছোট পরিসরে মোম তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে আর্থিক সংকটে ভুগছেন নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী মোম প্রস্তুতকারকরা।
বৈধ মোম প্রস্তুতকারকদের অভিযোগ, তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার পাশাপাশি নিয়মিত কর ও জিএসটি প্রদান করছেন। উৎপাদন খরচ, কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য খরচ বহন করে তাঁদের ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। অথচ একাংশ অনুমোদনহীন ব্যবসায়ী কোনও ধরনের কর বা জিএসটি প্রদান না করেই মোম তৈরি ও বাজারে বিক্রি করছেন। ফলে উৎপাদন খরচের দিক থেকে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈধ ব্যবসায়ীদের বিক্রি ও মুনাফার উপর।
দীপাবলির মতো উৎসবের মরশুমে সাধারণত মোমের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ বছর সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলে দাবি করছেন মোম প্রস্তুতকারকরা। তাঁদের বক্তব্য, উৎসবকে কেন্দ্র করে উৎপাদন ও বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বাজারে অনুমোদনহীন উৎপাদকদের উপস্থিতির কারণে প্রত্যাশিত ক্রেতা মিলছে না। ফলে উৎসবের মরশুমেও ব্যবসায়িক মন্দা কাটছে না।
ব্যবসায়িক মন্দার প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানেও। উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় অনেকটাই কমিয়ে দিতে হয়েছে কর্মীর সংখ্যা। এর ফলে মোম তৈরির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদেরও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তাঁদের ব্যবসা আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যাবে।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জনৈক মোম প্রস্তুতকারক সংস্থার মালিক অভিযোগ করেন, সরকারি তদন্ত ও নজরদারির অভাবেই রাজ্যে অনুমোদনহীন মোম তৈরির কারখানার সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, “যাঁরা সরকারি নিয়ম মেনে কর ও জিএসটি দিয়ে ব্যবসা করছেন, তাঁদের ব্যবসা আজ কঠিন পরিস্থিতির মুখে। অথচ অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, বৈধ ব্যবসায়ীদের উপর একদিকে যেমন কর ও অন্যান্য আর্থিক দায়বদ্ধতা রয়েছে, অন্যদিকে অনুমোদনহীন উৎপাদকরা সেই দায় এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে বাজারে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকছে না। এই পরিস্থিতিতে সরকারি অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছেন।
মোম প্রস্তুতকারকদের দাবি, রাজ্যে অনুমোদনহীন মোম তৈরির কারখানাগুলির বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানোরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং মোম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কর্মসংস্থান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দফতরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
দীপাবলির আগে মোমের বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে বৈধ মোম প্রস্তুতকারকদের মধ্যে। এখন সরকারি কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ