
মোহনপুর (ত্রিপুরা), ২ নভেম্বর (হি.স.) : আসন্ন পুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমলপুরের পর এবার মোহনপুরেও বিরোধীদের মনোনয়নপত্র দাখিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল। সোমবার সকালে মোহনপুর পুর পরিষদের সিপিআই(এম) মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মোহনপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয় চত্বর। অভিযোগ, শাসকদলের সমর্থক বলে পরিচিত একদল দুর্বৃত্তের লাঠিপেটায় অন্তত ১৫ জন সিপিআই(এম) কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার জেরে সিপিআই(এম) প্রার্থীরা এদিন মোহনপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। পরে তাঁরা আগরতলায় এসে পশ্চিম জেলার জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে গোটা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
সিপিআই(এম) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ মোহনপুর পুর পরিষদের দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফটিকছড়ি এলাকায় জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রচুর দলীয় কর্মী-সমর্থক। ফটিকছড়ি থেকে মিছিল করে মোহনপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু মিছিলের প্রস্তুতি চলাকালীনই সেখানে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠি নিয়ে সিপিআই(এম) কর্মী-সমর্থকদের উপর চড়াও হয়। ব্যাপক লাঠিপেটায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও বাহিনীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে অভিযোগ করেছে সিপিআই(এম)। পরিস্থিতির মধ্যে দলের অন্যান্য কর্মীরাই আহতদের উদ্ধার করে মোহনপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে দু'জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সিপিআই(এম) প্রার্থীরা এদিন মোহনপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। পরে তাঁরা মনোনয়নপত্র নিয়ে আগরতলায় পৌঁছে পশ্চিম জেলার জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেন। ডেপুটেশন প্রদান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সিপিআই(এম) নেতা তথা সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক শঙ্কর প্রসাদ দত্ত। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মোহনপুরে হামলার ঘটনা তুলে ধরেন এবং বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের পথে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার মোহনপুরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, ৩০ অক্টোবর রাজ্যের ২১টি নগর সংস্থার নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই মোহনপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয় ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ৩১ অক্টোবর থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা কার্যালয়টি কার্যত ঘেরাও করে রেখেছিলেন বলেও অভিযোগ বামফ্রন্টের।
এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে সিপিআই(এম) তথা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
মনোনয়নপত্র দাখিলের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা এবং বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আসন্ন পুর নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ