২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত রাজ্যের রাজধানীতে স্থাপন করা হবে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন কার্যালয়: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২ নভেম্বর (হি.স.) : ভারতে আসা বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) এবং অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবাকে আরও সহজ ও সুগম করতে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন কার্যালয়-র নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ জোরকদমে শুরু করেছে কেন্দ্র। কেন্
অমিত শাহ


নয়াদিল্লি, ২ নভেম্বর (হি.স.) :

ভারতে আসা বিদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) এবং অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবাকে আরও সহজ ও সুগম করতে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন কার্যালয়-র নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ জোরকদমে শুরু করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত রাজ্যের রাজধানীতে এফআরআরও কার্যালয় গড়ে তোলার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের এই নীতির ফলে বর্তমানে দেশে সক্রিয় এফআরআরও কার্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০টিতে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সাল থেকে শুরু করে এ যাবৎ মোট পাঁচটি নতুন এফআরআরও কার্যালয় সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে জয়পুর, চণ্ডীগড় এবং গুয়াহাটিতে তিনটি নতুন কার্যালয়ের পরিষেবা শুরু হয়েছিল। আর চলতি বছরে মিজোরামের রাজধানী আইজল এবং অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী অমরাবতীতে আরও দু’টি নতুন দপ্তর চালু করা হয়েছে। এছাড়াও নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমা, ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা এবং ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে তিনটি নতুন এফআরআরও কার্যালয় গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি (নোটিফিকেশন) জারি করা হয়েছে।

পূর্বে জয়পুর, চণ্ডীগড় এবং গুয়াহাটি যথাক্রমে দিল্লি, অমৃতসর ও কলকাতা এফআরআরও-র এক্তিয়ারভুক্ত বা অধীনস্থ ছিল। একইভাবে আইজল শহরটি কলকাতার এবং অমরাবতী হায়দরাবাদ এফআরআরও-র অধীনে পরিচালিত হতো। এছাড়া কোহিমা ও আগরতলাও পূর্বে কলকাতার এবং ভুবনেশ্বর হায়দরাবাদ দপ্তরের এক্তিয়ারাধীন ছিল। নতুন সম্প্রসারণের পর বর্তমানে দেশে যে ২০টি এফআরআরও দপ্তর পুরোদমে কাজ করছে, সেগুলি হলো— আহমেদাবাদ, অমরাবতী, অমৃতসর, আইজল, আগরতলা, বেঙ্গালুরু, ভুবনেশ্বর, কালিকট, চেন্নাই, কোচি, চণ্ডীগড়, দিল্লি, গুয়াহাটি, হায়দরাবাদ, কলকাতা, কোহিমা, কোঝিকোড়, লখনউ, মুম্বাই এবং তিরুঅনন্তপুরম।

মন্ত্রকের তরফ থেকে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিহার, গোয়া, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং মেঘালয়েও অতি দ্রুত এফআরআরও কার্যালয় স্থাপনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জেলা বা রাজ্য স্তরে এই সমস্ত দপ্তরের শাখা ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটন, চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ভারতে আসা বিদেশি নাগরিকেরা স্থানীয় স্তরেই খুব সহজে ভিসা বৃদ্ধি (ভিসা এক্সটেনশন), ভিসা রূপান্তর (ভিসা কনভার্সন), নিবন্ধন ও অন্যান্য ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত পরিষেবাগুলি লাভ করতে পারবেন।

বর্তমানে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ই-এফআরআরও পোর্টালের মাধ্যমে ৩৫টি অনলাইন পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে অনায়াসে রেজিস্ট্রেশন, ভিসা সম্প্রসারণ, ক্যাটাগরি রূপান্তর এবং অন্যান্য বৈধ ইমিগ্রেশন পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনলাইন পরিষেবা ব্যবস্থার ফলে বিদেশি নাগরিকদের বারবার সরকারি দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার ঝামেলা বহুলাংশে কমে যাবে এবং কাজকর্মে আরও স্বচ্ছতা আসবে।

কেন্দ্র সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এফআরআরও-র এই সর্বভারতীয় সম্প্রসারণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ ও অবস্থানকে সম্পূর্ণ সুগম করা এবং একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা বিধি ও ইমিগ্রেশন আইনগুলির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এর ফলে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কেন্দ্রীয় দপ্তরের প্রশাসনিক সমন্বয় এবং স্থানীয় স্তরে পরিকাঠামোগত ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, 'অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইন, ২০২৫' (Immigration and Foreigners Act, 2025) প্রচলিত চারটি পুরোনো আইনকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। এই আইনের আওতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন -কে সহায়তা প্রদান করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন আধিকারিকেরা ।

ভারতে বিদেশি নাগরিকদের বৈধ অবস্থান পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব পালন করে এই এফআরআরও। এর প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে দেশে পৌঁছানোর পর বিদেশি নাগরিকদের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন, রেসিডেন্সিয়াল পারমিট বা রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্র প্রদান, পাসপোর্ট বা স্থায়ী ঠিকানার পরিবর্তন নথিভুক্ত করা এবং সংরক্ষিত ও বিধিনিষেধ থাকা এলাকাগুলিতে যাওয়ার বিশেষ অনুমতি বা পারমিট ইস্যু করা। এছাড়া ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বা অবৈধভাবে বেশি দিন ভারতে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এক্সিট পারমিট প্রদান এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও এই সমস্ত কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande