জিরিবামে বাস্তুচ্যুত মানুজনের পাশে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম, কুকি-জো এবং মার নেতৃবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ
‘দু বছরের দুঃস্বপ্ন’ ভুলে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর জিরিবাম (মণিপুর), ১১ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অসম-মণিপুর আন্তঃরাজ্য সীমান্তবর্তী জিরিবাম (মণিপুর) জেলায় ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষজন’ (ইনটার্নেলি ডিসপ্লেসড
জিরিবামে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষজনের কাছে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং, সাক্ষাৎ কুকি-জো এবং মার নেতৃবর্গের সঙ্গে


‘দু বছরের দুঃস্বপ্ন’ ভুলে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর

জিরিবাম (মণিপুর), ১১ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অসম-মণিপুর আন্তঃরাজ্য সীমান্তবর্তী জিরিবাম (মণিপুর) জেলায় ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষজন’ (ইনটার্নেলি ডিসপ্লেসড পার্সনস, সংক্ষেপে আইডিপি)-এর সঙ্গে দেখা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। কুকি-জো এবং মার নেতৃবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী ‘দু বছরের দুঃস্বপ্ন’ ভুলে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে শপথ নেওয়ার পর আজ বুধবার রাজধানী ইমফল ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিং আসেন জিরিবাম জেলায়। এই সফরের মাধ্যমে নতুন সরকারের আন্তঃসম্প্রদায়িক বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং রাজ্যের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বহন করছে।

মুখ্যমন্ত্রী আজ তাঁর সফর শুরু করেন জিরিবাম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে স্থাপিত ত্রাণ শিবির থেকে। এই শিবিরে মেইতেই সম্প্রদায়ের ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষজন’ আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে শিবিরবাসীদের সঙ্গে কথা বলে মুখ্যমন্ত্ৰী খেমচাঁদ সিং বিবদমান সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি দূর করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জিরিবাম মণিপুরের প্রবেশদ্বার। জিরিবাম একটি বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে। যেমন মুম্বাই ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী, তেমনই জিরিবাম মণিপুরের মুম্বাই হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু ব্যবসা ও সমৃদ্ধির জন্য প্রথমে শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরি।’

এর পর তিনি কালিনগর ত্রাণ শিবিরে যান। সেখানে কুকি-জো সম্প্রদায়ভুক্ত মার জনজাতি সম্প্রদায়ের ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষজন’ আশ্রিত রয়েছেন। গত দু বছরের সহিংসতাকে তিনি ‘দুঃস্বপ্ন’ আখ্যা দিয়ে বাসিন্দাদের সাহস দেখিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, গত দু বছরকে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে ধরে নিয়ে শান্তি ও উন্নয়ন পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দেই।’

মূলত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী মার সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে ক্ষমা ও সহমর্মিতার মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমা ও করুণার নীতি ভাঙা সামাজিক বন্ধন পুনর্গঠনে সাহায্য করতে পারে। পরে তিনি ২০২৩ সালে সংগঠিত সহিংসপীড়িত জারোলপোকপি গ্রাম পরিদর্শন করেন।

৮ ডিসেম্বরের পর কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকায় এটি ছিল মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিঙের দ্বিতীয় সফর। ওই দিন তিনি উখরুল জেলার লিতান সারাইকহং এলাকায় বাস্তুচ্যুত কুকি পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী একটি অভিন্ন মণিপুরি পরিচয় পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি ‘মণিপুরি’ ধারণাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। আমরা প্রথমে ভারতীয়, তারপর মণিপুরি; আমরা মণিপুরি নাগা, মণিপুরি কুকি বা মণিপুরি মেইতেই, যা-ই হই না-কেন; আমাদের এই সম্মিলিত পরিচয় পুনর্গঠন করতে হবে।”

জারোলপোকপি গ্রামের বাসিন্দারা সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ভবন পুনর্নির্মাণে সহায়তা চান।

আজ মুখ্যমন্ত্ৰী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং মংবুং মেইতেই গ্রামও পরিদর্শন করেছেন। মংবুং মেইতেই গ্ৰামের বাসিন্দারও জরুরি ভিত্তিতে গ্রামের রাস্তা মেরামতের দাবি জানান। উন্নয়নমূলক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ধারাবাহিক আলাপ-আলোচনাই অবিশ্বাস দূর করার মূল চাবিকাঠি।

চলমান পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গৃহহীন ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষজন’দের জন্য স্থায়ী আবাসন নির্মাণাধীন। মার্চের মধ্যে তা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির উদ্বেগ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জিরিবাম ত্রাণ শিবিরে সাক্ষাৎকালে মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ প্যালিয়েটিভ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় জনৈক প্রবীণ মহিলার হাতে একটি হুইলচেয়ার তুলে দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জাত ও সম্প্রদায়ের বিভাজনমুক্ত একতাবদ্ধ মণিপুর গড়ার অঙ্গীকার করেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির শাসনামলে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এবং তাঁর সরকার একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা এখনই সম্ভব নয়।

সফরের অংশ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী ৮৭ ব্যাটালিয়ন সিআরপিএফ সদর দফতরে আইআরবি ব্যারাক নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রস্তাবিত ব্যারাকটি এই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিকাঠামো জোরদার করার ওপর সরকারের গুরুত্বের বার্তা বহন করে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande