
হুগলি, ১৭ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের কোদালিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১১২ ও ১১৩ নম্বর বুথে (কানাগড় আশ্রম মঠ এলাকা) আয়োজিত জনসংযোগ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিজেপি নেতা রাজীব নাগের কাছে তাঁদের গুরুতর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বর্ষা এলেই এলাকা ভয়াবহভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়ে, এছাড়া নিরাপত্তার অভাব নিয়েও বিজেপি নেতা রাজীব নাগের কাছে সরব হন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এলাকার কাঁচা নর্দমাগুলো পরিষ্কার করা হয়নি। ড্রেনে ঝোপঝাড় ও আবর্জনা জমে থাকায় বৃষ্টির জল বেরোতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নর্দমার জল উপচে ঘরের সামনে চলে আসে এবং যাতায়াত ব্যাহত হয়। জলমগ্ন পরিস্থিতির কারণে এলাকায় মশা ও জলবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।
জনসংযোগ চলাকালীন মহিলারা অভিযোগ করেন যে, এলাকার অনেক জায়গাতেই স্ট্রিট লাইট বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। রাতে কাজ থেকে ফেরার সময় তাঁদের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার জানিয়েও কোনও সমাধান মেলেনি।
বাসিন্দাদের সব অভিযোগ শোনার পর হুগলি জেলা বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন জেলা সহ-সভাপতি রাজীব নাগ ওরফে ‘মিঠু’ মঙ্গলবার অভিযোগ করেন যে, এলাকাটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হওয়ার কারণেই স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার উন্নয়নের কাজে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছেন। তিনি বলেন, “বিধায়ক গত ১৫ বছর ধরে চুঁচুড়া বিধানসভার প্রতিনিধিত্ব করছেন, কিন্তু মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধানে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেননি।”
রাজীব নাগ দাবি করেন, ২০২৬ সালে বাংলায় পরিবর্তন নিশ্চিত। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হলে উন্নয়নের গতি বাড়বে, মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে, চুঁচুড়ায় নতুন শিল্প স্থাপন করা হবে।
সংবাদটি লেখা পর্যন্ত এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি