
গুয়াহাটি, ২৪ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অষ্টম অসম পে কমিশন, ২০২৬ গঠন করেছে রাজ্য সরকার। নবগঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএস সুভাষচন্দ্র দাস।
আজ মঙ্গলবার অর্থ দফতরের (পে রিসার্চ ইউনিট) জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অর্থ (পিডিইউ) দফতরের সচিব কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন কর্মীবিভাগ, এআরটিপিপিসি বিভাগ এবং অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠতম সচিবগণ; বিচার বিভাগের এলআর-কাম-কমিশনার ও বিশেষ সচিব; অর্থ (বাজেট) বিভাগের বিশেষ পরিচালক অথবা অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠতম সচিবের মনোনীত প্রতিনিধি এবং গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রতুল মহন্ত।
এই কমিশনের মূল দায়িত্ব হবে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো ও পরিষেবা শর্তাবলীর নীতিমালা পর্যালোচনা করা। তবে অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের আধিকারিকগণ, ইউজিসি/এআইসিটিই বা প্রযুক্তিগত বেতনক্রমভুক্ত ডিগ্রি কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ, নার্সিং কলেজ, আয়ুর্বেদিক কলেজ, ফার্মাসি ইনস্টিটিউট, পলিটেকনিক এবং অন্যান্য স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা এই কমিশনের আওতার বাইরে থাকবেন। একইভাবে, শেট্টি কমিশন/এসএনআইপিসি অনুযায়ী বেতনপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় পরিষেবার কর্মকর্তারাও এর অন্তর্ভুক্ত নন।
সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশন এমনভাবে বেতন, ভাতা ও পরিষেবা শর্ত সংশোধনের সুপারিশ করবে যা হবে ন্যায্য, কর্মদক্ষতাভিত্তিক এবং আর্থিকভাবে টেকসই। এ ক্ষেত্রে বেতন কাঠামোর ঐতিহাসিক বিবর্তন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্য, উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকার, কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণ এবং কেন্দ্রীয় পে কমিশনের সুপারিশসমূহ বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি আসাম ফিসক্যাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট-এর বিধানও অনুসরণ করা হবে।
কমিশনকে টেকসই বাস্তবায়নের মানদণ্ড, আর্থিক মডেলিং এবং ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে বছরভিত্তিক আর্থিক প্রভাবের পূর্বাভাস এবং নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সরকার জানিয়েছে, বেতন কাঠামোর একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা অত্যাবশ্যক, কারণ সর্বশেষ বেতন সংশোধন কার্যকর হয়েছিল ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে সপ্তম আসাম পে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে। সরকার জোর দিয়ে বলেছে, নতুন বেতন সংশোধনের সঙ্গে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, ফলাফলভিত্তিক শাসনব্যবস্থা এবং জনবল যুক্তিসংগতকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি পরিষেবা প্রদানে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রণালী (এইচআরএমআইএস)-র সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সমন্বয়, পরিমাপযোগ্য কর্মদক্ষতার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতি কর্মীর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। প্রণোদনা কাঠামো চালু হলে তা নিরপেক্ষভাবে পরিমাপযোগ্য সূচকের সঙ্গে যুক্ত এবং আর্থিক দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
অষ্টম আসাম পে কমিশনের সদর দফতর থাকবে গুয়াহাটি শহরে এবং গঠনের তারিখ থেকে সম্ভব হলে ১২ মাসের মধ্যে কমিশনকে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস