
বেশ কয়েকটি প্ৰকল্পের উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর
ডিফু (অসম), ২৪ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : বোকাজান বিধানসভা এলাকার সরিয়হজান সাংজাংলাংসো খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যোগিতা অভিযান’ প্রকল্পের অধীনে ১৭,৩৯৮ জন মহিলা উদ্যোক্তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা জোরদার করা এবং তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে রাজ্যের ১১৫টি বিধানসভা এলাকায় ২৮.৬১ লক্ষের বেশি মহিলা এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।
মহিলাদের পরিবার সমাজের মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, নারীদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করা গেলে পরিবার আরও দৃঢ় হয় এবং সমাজ হয় অধিক স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ। ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যোগিতা অভিযান’ প্রকল্পের অধীনে এই সিড ফান্ড বিতরণ কর্মসূচি রাজ্যে মহিলা-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ এবং টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে সরকারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বোকাজানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি রাজ্যের নারী ক্ষমতায়ন অভিযানের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিরই প্রতিফলন। আর্থিকভাবে সক্ষম নারীরাই অসমের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
এই সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্ৰী খটখটিতে প্রায় ২০ কোটি টাকায় নিৰ্মিত স্টেডিয়াম, বালিপথার, বড়পাথার, সিলনিজান এবং হিদিপিতে নিৰ্মিত চারটি বাজার গৃহের রিমোর্ট টিপে শুভ উদ্বোধন করেছেন। সভায় মুখ্যমন্ত্ৰী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা বিগত দিনের উন্নয়নর খতিয়ান ধরে বোকাজানে ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সৈনিক স্কুল স্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন।
অনুষ্ঠান শেষে সভাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে খানিকক্ষণ বার্তালাপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার বোকাজান বিধানসভা আসনে বিজেপির প্ৰাৰ্থী কে হবেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও বোকাজান আসনে বিজেপির প্ৰাৰ্থী কে হবেন তা ঠিক হয়নি। আগামী ১৬ মাৰ্চের মধ্যে বিজেপির সম্ভাব্য প্ৰাৰ্থী তালিকা প্ৰকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়ে বলেন, এখানে তাঁর বলার কিছু নেই। প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে কারবি আংলং স্বশাসিত পরিষদ এবং দল সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে কারবি আংলং জেলার পাঁচটি বিধানসভা আসনের মধ্যে দু-তিনটি আসনে নতুন মুখ আসতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। কারবি আংলং জেলায় বিরোধী এপিএইচসিএল-এর অবস্থানে শাসক দলের কোনও ক্ষতি হবে না বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন এপিএইচসিএল-এ মুষ্টিমেয় ভোটার থাকতে পারেন। কিন্তু এই দল কখনও নিৰ্বাচনী ফ্যাক্টর হবে না, বলেন তিনি।
এদিকে রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্ৰেস বিজেপিকে বিপাকে ফেলার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপেই গ্ৰহণ করুক না-কেন, এতে বিজেপির জন্য আশীৰ্বাদ হবে বলে মন্তব্য করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব