
চেন্নাই, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): স্বাধীনতা সংগ্রামী ও তামিলনাড়ুতে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) প্রবীণ নেতা আর. নাল্লাকান্নু বুধবার চেন্নাইয়ের রাজীব গান্ধী হাসপাতালে প্রয়াত হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০১ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে আইসিইউ–তে ভর্তি করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চললেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বুধবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
‘কমরেড আরএনকে’ নামে পরিচিত নাল্লাকান্নু প্রায় আট দশক ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে সাদাসিধে জীবন, সততা ও নিঃস্বার্থ জনসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ১৯২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর তৎকালীন তুতিকোরিন (বর্তমানে থুত্থুকুডি) জেলার পেরুমপাথু গ্রামে তাঁর জন্ম। এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই দারিদ্র্য ও শোষণের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
সাম্যবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৪৬ সালে, দেশ যখন তখনও ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে, তিনি সিপিআই-তে যোগ দেন। ১৯৪৮ সালে ‘নেল্লাই ষড়যন্ত্র মামলা’-য় গ্রেফতার হয়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন। কারাবাসকালে তাঁকে অমানবিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়। এক ঘটনায় পুলিশ কর্মী সিগারেট দিয়ে তাঁর গোঁফ পুড়িয়ে দেয়। এরপর আজীবন তিনি গোঁফ রাখেননি।
কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের অধিকারের প্রশ্নে তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন। শোষণমূলক জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন, তামিলনাড়ুর নদীতে অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরোধিতা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা সমস্যাতে তিনি নিরলসভাবে লড়াই চালিয়েছেন। পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদে শামিল হন।
সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক হিসেবে ১৩ বছর দায়িত্ব পালনের পরও তাঁর জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। ৮০-তম জন্মদিনে দলীয় কর্মীরা তাঁকে একটি গাড়ি ও এক কোটি টাকার আর্থিক অনুদান দিতে চাইলে তিনি মঞ্চ থেকেই তা ফিরিয়ে দিয়ে বলেন - এই অর্থ জনগণের।
২০২২ সালে রাজ্য সরকার তাঁকে ‘থাগাইশাল তমিজার’ সম্মানে ভূষিত করে ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান করে। সেই অর্থও তিনি গ্রহণ না করে নিজের পক্ষ থেকে ৫,০০০ টাকা যোগ করে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করেন। ২০০৮ সালে আম্বেদকর পুরস্কার, এছাড়াও পরবর্তীকালে ‘থাগাইশাল তমিজার’ সম্মান–সহ বহু পুরস্কারে তিনি সম্মানিত হন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য