
ঝাড়গ্রাম, ৯ ফেব্রুয়ারি (হি. স.): সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক গুজবকে কেন্দ্র করে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন গ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে রাত্রিকালীন টহলদারি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জুড়ে রাতভর নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাতে যাতায়াতকারী বাইক ও অন্যান্য গাড়ির ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে চালক ও আরোহীদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।
গত রবিবার বেলিয়াবেড়া থানার খাড়বান্দি এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বাইক আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। বাইক আরোহীর মুখ ও চোখে অস্বাভাবিক রং লাগানো থাকায় প্রথমে সন্দেহ হয়। তবে পরে তাঁদের পরিচয়, বাড়ির ঠিকানা এবং গন্তব্য যাচাই করে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে গুজব রটেছে, রাতের অন্ধকারে বাড়ির দরজায় কড়া নাড়া, আধার কার্ডসহ নথি চাওয়া, এমনকি নথি পুড়িয়ে দেওয়া বা ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটছে। এই সব গুজবের জেরে বহু গ্রামে গ্রামবাসীরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই সন্ধ্যার পর বিয়েবাড়ি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে ভয় পাচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেলপাহাড়ি, লালগড়সহ জেলার বিভিন্ন থানার পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে। পুলিশ বারবার গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঝাড়গ্রাম, মানিকপাড়া, লোধাশুলি, সাঁকরাইল, বেলিয়াবেড়া, জামবনি ও লালগড় এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে গত কয়েক দিন ধরে এ ধরনের গুজবের খবর মিলেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও গুজবের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি এবং এই সংক্রান্ত কোনও লিখিত অভিযোগও থানায় জমা পড়েনি। ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামীম বিশ্বাস বলেন, “আমরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন থানা এলাকায় সচেতনতা প্রচার চালাচ্ছি। পুলিশি নজরদারি রয়েছে। গুজব না ছড়ানোর জন্য সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং যে কোনও সন্দেহজনক বিষয় সরাসরি থানায় জানানোর আবেদন জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো