সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানে উদ্বিগ্ন নিতাই রায়চৌধুরী, সংস্কৃতিক কর্মসূচিরও ভাবনা বাংলাদেশের মন্ত্রীর
ঢাকা, ১০ মার্চ (হি.স.): মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এটা রুখতে না পারলে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভরত-সহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠবে। একথা কার্যত মেনে নিলেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী।

সাক্ষাৎকার

ঢাকা, ১০ মার্চ (হি.স.): মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এটা রুখতে না পারলে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভরত-সহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠবে। একথা কার্যত মেনে নিলেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী। তাই মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে রুখতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রক বাংলাদেশ ও ভারত-সহ সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি মধ্যে সঙ্গীত উৎসব-সহ বিভিন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বহুভাষী সংবাদ সংস্থা হিন্দুস্থান সমাচার-এর মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী। বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই ভৌগোলিক ও সংস্কৃতিক দিক থেকে বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শিক্ষা ও সংস্কৃতি তাঁর রক্তের সঙ্গে মিশে আছে উল্লেখ করে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, প্রখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ এবং অবিভক্ত ভারতের প্রথম শিল্প উদ্যোক্তা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের বংশধর তিনি। কিভাবে সংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-সহ দক্ষিণ এশিয়ায় এক সম্প্রীতির বাতবরন প্রতিষ্ঠা করা য়ায় সে পরিকল্পা আছে তাঁর। আর সে পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছেন। হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারের মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে না পারলে ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করা যাবে না। অশান্ত হয়ে যাবে গোটা দক্ষিণ এশিয়া।

হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের মূল বিষয় :

হি.স: বাংলাদেশ-ভারত সহ দক্ষিণ এশিয় দেশগুলির মানুষের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রক কীভাবে কাজ করবে?

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে এখন অশান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। যুদ্ধ-সংঘাত লেগেই আছে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অথচ সাধারণ মানুষ এই যুদ্ধের জন্য দায়ী না। বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশের মন্ত্রী হয়ে সমগ্র বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা না ভাবতে পারলেও, ভারত-সহ এই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় একটি সংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে পিপল টু পিপল রিলেশন বৃদ্ধিতে কাজ করার সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তো ভাবাই যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের লোক সংগীত বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। যেমন লালন শাহ-এর গান, হাসান রাগার গান, শাহ আব্দুল করিমের গান, মারফতি গান। এমন অনেক মরমি শিল্পী আছে যাদের সঙ্গীত মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। আর এতে মানুষে মানুষে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন হয়। তিনি বলেন, সার্ক-সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির নিত্য শিল্পীদের একটি মিলন মেলা তৈরি করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে।

হি.স: ভারতের সঙ্গে শিল্পকলা বিনিময়ের কি ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?

মন্ত্রী: বর্তমান সরকারের বয়স একমাসও হয়নি। তবে এরই মধ্যে আমরা ভারতের কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শান্তিনিকেতনের একটি শাখা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি এবং ভারত সম্মতি দিলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে ভারতে একটি নজরুল একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা আছে। মূলত বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার শিল্পকলার একটি হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে কলকাতা ও আগরতলার সঙ্গে রেল চলাচল শুরু হলে উভয় দেশের শিল্পীরা খুুব কম খরচে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। আর উভয় দেশের শিল্পীদের আসা-যাওয়া বাড়লে ভারত বিদ্বেষ কমে যাবে। উভয় দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক বাড়বে, ভুলবোঝাবুঝি কমবে।

হি.স: মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া উর রহমানের ভারতে স্মৃতি বিজড়িত দিনগুলো নিয়ে কোনও চলচ্চিত্র তৈরির পরিকল্পনা কী রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রকের?

উত্তরে মন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা চলাকালীন সময় তাঁর ভারতে স্মৃতিময় জীবন সব মিলিয়ে মূলত মুক্তি যুদ্ধে তাঁর যে অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাইছি। যারা মুক্তি যুদ্ধ দেখেনি সেই প্রজন্মের কাছে এখন মুক্তি যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা দরকার। সংস্কৃত বিষয়ক মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ফিল্ম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বিগত ১৬ বছর এককেন্দ্রীক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছিল সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাইছি।

হি.স: নতুনদের নিয়ে বাংলাদেশে সরকার গঠন হয়েছে, এতে বাংলাদেশ কতটা সফল হবে?

মন্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে মন্ত্রী হিসেবে যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে নতুন পুরাতন দুই প্রজন্মদের নিয়ে একটি শক্তিশালী মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিপ্লব বিশ্বের ইতিহাসে উদাহরণ হিসেবে থাকবে, যা মৌলবাদীকে রুখে দেবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ-ই মন্ত্রী পরিষদ দেশবাসী ও বিশ্বকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ




 

 rajesh pande