
রায়পুর, ১১ মার্চ (হি. স.) : ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতি সাম্প্রতিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি কড়া চিঠি লিখেছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। বুধবার লেখা এই চিঠিতে তিনি সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষা এবং আদিবাসী সমাজের সম্মান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, আদিবাসী সমাজ থেকে আসা দেশের প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতির প্রতি এই ধরনের আচরণ কেবল কোনও ব্যক্তির অপমান নয়; বরং এটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সমগ্র আদিবাসী সমাজ এবং মাতৃশক্তির অবমাননা। তিনি বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং শিষ্টাচার সারা বিশ্বে সমাদৃত। মতভেদ থাকলেও মনভেদ না করার সংস্কৃতি আমাদের দীর্ঘদিনের। কিন্তু রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ পদের প্রতি নূন্যতম শিষ্টাচার পালন না করা গণতান্ত্রিক মূলবোধের পরিপন্থী।
চিঠিতে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের প্রাক্কালে একজন আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতির সফরকালীন কর্মসূচিতে অব্যবস্থা এবং তাঁর অপমান অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনা দেশের কোটি কোটি আদিবাসী, অনগ্রসর, দলিত এবং মহিলাদের আবেগকে গভীরভাবে আহত করেছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এটিই প্রথমবার যেখানে কোনও রাজ্য সরকারের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বয়ং রাষ্ট্রপতিকে প্রকাশ্যে নিজের যন্ত্রণার কথা জানাতে হয়েছে। এটি পশ্চিমবঙ্গের মতো ঐতিহ্যবাহী রাজ্যের ভাবমূর্তিতেও আঘাত হেনেছে।
সন্দেশখালির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, সেখানেও আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সারা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। বঞ্চিত ও আদিবাসী সমাজের সঙ্গে এহেন আচরণ কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যেন তিনি এই বিষয়ের জন্য দেশ ও সমাজের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে সাংবিধানিক পদের প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় রাখার আশ্বাস দেন।
পরিশেষে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রপতির সম্মান রক্ষার বিষয়টি দেশের অস্মিতা ও স্বাভিমানের সঙ্গে যুক্ত। তাই রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি দায়িত্বশীল সরকারের কর্তব্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি