
বিষ্ণুপুর, ১৪ মার্চ (হি.স.): অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে আয়োজিত হলো এক বিশাল শ্রমিক সম্মেলন। শনিবার ভারতীয় রেলওয়ে মালগুদাম শ্রমিক ইউনিয়ন (বিআরএমজিএসইউ)-এর উদ্যোগে মহকুমা শহরের লালমাটি রিসর্টে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাঁকুড়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিনের সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রেলওয়ের মালগুদাম শ্রমিকদের পাশাপাশি পাথরের মূর্তি শিল্পী, মৃৎশিল্পী, রাজমিস্ত্রি, বিড়ি শ্রমিক, গৃহশিক্ষক ও প্রান্তিক কৃষকরাও শামিল হন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অসংগঠিত ক্ষেত্রের সমস্ত শ্রমিকের অভিন্ন সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা দেওয়াই ছিল এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) সদস্য প্রিয়ঙ্ক কানুনগো। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডঃ পরিমল কান্তি মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক ইন্দু শেখর চক্রবর্তী, ন্যাশনাল অফিস ইনচার্জ পার্থপ্রতিম ঘোষ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে ধামসা-মাদলের সুরে প্রধান অতিথিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
উদ্বোধনী ভাষণে সংগঠনের নেতৃত্ব হারাধন কৈবর্ত অসংগঠিত শ্রমিকদের সংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রিয়ঙ্ক কানুনগো বলেন, “অসংগঠিত শ্রমিকদের মানবাধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
সংগঠনের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডঃ পরিমল কান্তি মণ্ডল জানান, দেশের প্রায় ২০০টি গুডস শেডে কর্মরত মালগুদাম শ্রমিকদের নিয়ে একটি জাতীয় তথ্যসমীক্ষা সম্পন্ন করে কেন্দ্রের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই শ্রমিকদের শনাক্তকরণ, পরিচয়পত্র প্রদান ও নির্দিষ্ট মজুরি নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত