
নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ (হি.স.) : দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে এবং খরিফ মরশুমে কোনও ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। শনিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বিশেষ করে ২০২৬ সালের খরিফ মরশুমের জন্য ইউরিয়া, ডিএপি এবং এনপিকে—সব ধরনের সারের মজুত বিগত বছরের তুলনায় বেশি রয়েছে।
তিনি জানান, ইউরিয়ার মজুত বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি। ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি সারের মজুত প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একইসঙ্গে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম (এনপিকে) সারের মজুতও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দেশে ইউরিয়ার ঘরোয়া উৎপাদনও নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রবি মরশুম শেষের পথে থাকায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি সার কারখানায় নির্ধারিত বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে, ফলে উপলব্ধ গ্যাস ব্যবহার করে উৎপাদন সর্বোচ্চ মাত্রায় বাড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে সার দফতর আগেই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল। তাতে ভালো সাড়া মিলেছে এবং মার্চের শেষ নাগাদ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্ডার করা অধিকাংশ সার দেশে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তিতে স্পট গ্যাস কেনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে এবং প্রথম ধাপের ক্রয় মঙ্গলবারের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
কেন্দ্রের আশা, ১৫ মে নাগাদ খরিফ মরশুমে সারের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সার দফতর আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে ব্রিকস প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে জোটের কয়েকটি সদস্য দেশ সরাসরি যুক্ত থাকায় চলমান সংঘাত নিয়ে ব্রিকসের অভিন্ন অবস্থান তৈরিতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ব্রিকসের সভাপতি হিসেবে ভারত শেরপা চ্যানেলের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলির মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গত ১২ মার্চ ভার্চুয়াল ব্রিকস শেরপা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভারতীয় নেতৃত্ব এই অঞ্চলের ব্রিকস সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য