

নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ (হি.স.) : পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে দেশজুড়ে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। পাশাপাশি গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের সরবরাহও দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে আতঙ্কে অতিরিক্ত বুকিং না করার জন্য সাধারণ মানুষকে আবেদন জানিয়েছে মন্ত্রক।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (বিপণন ও তেল শোধনাগার) সুজাতা শর্মা জানান, দেশের ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের বিতরণ শুরু হয়েছে। দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, কিন্তু আতঙ্কে অনেকেই বড় সংখ্যায় বুকিং করছেন।
তিনি জানান, ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দ’ নামের দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতের দিকে এগোচ্ছে। এই দুটি জাহাজে মোট ৯২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গ্যাস নিয়ে আসা হচ্ছে, যা বড় জ্বালানি সরবরাহ অভিযানের অংশ।
সুজাতা শর্মা আরও বলেন, দেশে অপরিশোধিত তেল ও রিফাইনারির সরবরাহেও কোনও সমস্যা নেই। রিফাইনারিগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে এবং খুচরো বাজারে পেট্রোল বা ডিজেলের ঘাটতির কোনও খবর নেই।
তিনি জানান, যেসব বাণিজ্যিক গ্রাহক এলপিজি সরবরাহে সমস্যার মুখে পড়ছেন, তাঁদের পাইপলাইন ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) সংযোগের দিকে স্থানান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে গ্যাস অথরিটি অব ইন্ডিয়া লিমিটেড ( জিএআইএল / গেল) বিভিন্ন সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত পিএনজি সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোথাও এলপিজি স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সুজাতা শর্মা জানান, শুক্রবার পর্যন্ত দেশে এলপিজি বুকিংয়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৫ থেকে ৭৬ লক্ষ। শনিবার তা বেড়ে প্রায় ৮৮ লক্ষে পৌঁছেছে, যার বড় অংশই আতঙ্কজনিত বুকিং। তাই প্রয়োজন ছাড়া বুকিং না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্র।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য