
কলকাতা, ১৪ মার্চ (হি. স.) : প্রতিরোধজনিত বিরল রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে কলকাতায় শনিবার থেকে শুরু হলো জাতীয় স্তরের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন— ‘পিডকন -২০২৬’। ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর প্রাইমারি ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি এবং ফাউন্ডেশন ফর প্রাইমারি ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ডিজিজেস -এর যৌথ উদ্যোগে শহরের একটি বেসরকারি হোটেলে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, পূর্ব ভারতে এই প্রথম জন্মগত রোগ প্রতিরোধজনিত ত্রুটি বা ‘ইনবর্ন এররস অব ইমিউনিটি’ নিয়ে জাতীয় স্তরের এমন বড় মাপের বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, গবেষক ও বিজ্ঞানীরা অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো, বিরল এই রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নির্ভুল ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ের উপায় খুঁজে বের করা।
চিকিৎসকদের মতে, ‘ইনবর্ন এররস অব ইমিউনিটি’ মূলত একাধিক জিনগত ত্রুটিজনিত রোগের সমষ্টি। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা বারবার সংক্রমণ বা জটিল প্রদাহজনিত রোগে ভোগেন। সচেতনতার অভাবে অনেক সময়ই এই রোগ নির্ণয়ে অনেক দেরি হয়ে যায়, যা রোগীর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
এদিনের সম্মেলনে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সুধীর গুপ্তা। আয়োজক সম্পাদক তথা ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক প্রিয়ঙ্কর পাল জানান, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করাই এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সম্মেলনে জিন থেরাপির সম্ভাবনা, ‘ফ্লো সাইটোমেট্রি’ ও ‘নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং’-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পরিকাঠামো সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের আশা, এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীরা অনেক দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত