
জলপাইগুড়ি, ১৯ মার্চ ( হি. স.) : টিকিট না পাওয়ার পর শুরু হওয়া ক্ষোভের অধ্যায় অবশেষে সমাপ্ত হলো। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই তাঁর বিদ্রোহী আচরণ প্রকাশ্যে আসছিল। এমনকি তিনি জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণাও করেছিলেন। তাঁর সমর্থনে রাজগঞ্জ ব্লক নেতৃত্বও পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
খগেশ্বর রায় জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার মধ্যে দলের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেলে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসরে নামতে হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী ফোনে খগেশ্বর রায়ের সঙ্গে কথা বলেন। নেত্রীর দেওয়া আশ্বাসের পর প্রবীণ এই নেতা সন্তুষ্ট হন। বৃহস্পতিবার বেলাকোবায় নিজের বাসভবনে জেলা নেতৃত্বের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে খগেশ্বর রায় পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, তিনি দলেই থাকছেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, এবার রাজগঞ্জ আসন থেকে খগেশ্বর রায়কে টিকিট দেওয়া হয়নি। তাঁর পরিবর্তে স্বপ্না বর্মণকে প্রার্থী করা হয়েছে। তালিকায় নিজের নাম না দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই সরব হয়েছিলেন খগেশ্বর রায়।
তবে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল সুপ্রিমোর হস্তক্ষেপে তাঁর মানভঞ্জন হয়েছে। এর ফলে জলপাইগুড়ি জেলা এবং রাজগঞ্জ এলাকার তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে আপাতত স্বস্তির পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি