
গুয়াহাটি, ২ মাৰ্চ (হি.স.) : মিঞাসত্বার কাছে আত্মসমর্পণ করে অসমীয়ার আত্মা নামঘরকে মসজিদের সঙ্গে তুলনা করছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে মিঞাসত্বার কাছে আত্মসমর্পণ করে অসমের স্বাভিমান ও গরিমাকে বন্ধক রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই দল। অভিযোগ অসম প্রদেশ বিজেপির।
আজ সোমবার গুয়াহাটিতে দলের প্রদেশ সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবন-এ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি-র রাজ্য মুখপাত্র রঞ্জীবকুমার শৰ্মা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে এই অভিযোগ করেছেন। রঞ্জীবের অভিযোগ, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে ‘মিঞাসত্বার কাছে আত্মসমর্পণ’ করেছে এবং অসমের স্বাভিমান ও গরিমাকে বন্ধক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
তিনি দাবি করেন, সরকারি জমি ও বনভূমি থেকে উচ্ছেদকৃত বেদখলকারীদের পুনরায় পূর্বস্থানে বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাঁর বক্তব্য, গৌরব গগৈ-এর নেতৃত্বে কংগ্রেস যে কোনও উপায়ে অসমের সামাজিক জীবনে ‘মিঞা আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
বিজেপির মুখপাত্র বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মার নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পাঁচ লক্ষ বিঘা জমি বেদখলমুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যে ১.৫ লক্ষ বিঘা জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন রঞ্জীবকুমার শৰ্মা। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের শাসনামলে সত্ৰ, বনাঞ্চল এবং স্থানীয় খিলঞ্জিয়া (ভূমিপুত্র) মানুষের জমি দখল হয়েছিল, যা বর্তমান সরকার উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করছে।
রঞ্জীব শর্মা আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী প্রচারে উচ্ছেদের বিরোধিতা করছে এবং নির্বাচনী প্রচার-সংগীতেও সেই বার্তা তুলে ধরেছে। কংগ্রেসের প্রকাশিত প্রচারপত্র ও সাহিত্যে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অসমীয়া সমাজের আত্মার প্রতীক ‘নামঘর’-এর সঙ্গে মসজিদের তুলনা করে কংগ্রেস যে নির্বাচনী গান প্রকাশ করেছে, তা অসমের সমাজজীবনের প্রতি চরম অবমাননা, এই অভিযোগও তুলেছেন বিজেপির প্রদেশ মুখপাত্র।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন শিবিরে রকিবুল হুসেন, নুরুল হুদা, জাকির হুসেন শিকদার, রেকিবুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ নেতারা যুক্ত হয়ে স্থানীয় খিলঞ্জিয়া স্বার্থের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।
রঞ্জীবের বক্তব্য, কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক অবস্থান অসম ও অসমীয়াদের জন্য এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস