( রাউন্ড আপ) বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ : বঙ্গে প্রচারের পারদ তুঙ্গে,সব পক্ষই এখন ভোটারদের দুয়ারে
কলকাতা, ২০ মার্চ (হি.স.): প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে পুরোদমে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। শুক্রবার রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্র প্রার্থীদের প্রচার ও জনসংযোগের বিচিত্র ছবি ধরা পড়ল। কোথাও মন্দিরে আশীর্বাদ নিয়
বঙ্গে প্রচারের পারদ তুঙ্গে


কলকাতা, ২০ মার্চ (হি.স.): প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে পুরোদমে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। শুক্রবার রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্র প্রার্থীদের প্রচার ও জনসংযোগের বিচিত্র ছবি ধরা পড়ল। কোথাও মন্দিরে আশীর্বাদ নিয়ে, কোথাও লোকাল ট্রেনের কামরায়, আবার কোথাও চা বলয়ের মেহনতি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে ভোট চাইলেন প্রার্থীরা।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ধর্মীয় আস্থার মাধ্যমে প্রচার অভিযান শুরু করল বিজেপি। শুক্রবার সকালে নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অর্জুন সিং এবং বীজপুর কেন্দ্রের প্রার্থী সুদীপ্ত দাস হালিশহরের ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দিরে একসঙ্গে পূজা-অর্চনা করেন। পুজো শেষে অর্জুন সিং জানান, জনগণের আশীর্বাদ নিয়েই তিনি ময়দানে নেমেছেন।

একই ছবি দেখা গেল নদীয়ার নবদ্বীপে। সেখানে বিজেপি প্রার্থী শ্রুতি শেখর গোস্বামী মহাপ্রভু মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন আশ্রম পরিক্রমা করেন এবং নিজে হাতে দেওয়াল লিখন করে জনসংযোগ সারেন। তিনি জানান, নবদ্বীপের আধ্যাত্মিক ও সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যেই তাঁর এই লড়াই।

পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পূর্ব কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী ইব্রাহিম আলি শুক্রবার ভোর থেকেই প্রচারে নামেন। কোলাঘাট রেল স্টেশন এবং স্থানীয় ফুল বাজারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। ইব্রাহিম আলির অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে “সেটিং” চলছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।

হুগলির গোঘাট কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের সময় আলুর দামের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, আলুর ন্যায্য দাম না পেয়ে চাষিরা সংকটে থাকলেও রাজ্য সরকার উদাসীন। অন্যদিকে, আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগ ধরা দিলেন এক অভিনব রূপে। এদিন বিকেলে তিনি গোঘাট-তারকেশ্বর লোকাল ট্রেনে উঠে কামরার ভেতরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জোড়াফুল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান। তিনি দাবি করেন, “আমরা রথে নয়, পথেই থাকি।”

শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শঙ্কর মালাকার এদিন নকশালবাড়ির মাঞ্জা চা বাগানে জোরকদমে প্রচার সারেন। গত ১৫ বছরে চা বলয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি শ্রমিকদের আশীর্বাদ চান।

ডুয়ার্সের রাজনৈতিক মহলেও তৎপরতা তুঙ্গে। নাগরাকাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্জয় কুজূর এদিন মালবাজারের প্রার্থী তথা মন্ত্রী বুলুচিক বরাইকের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিজেপি প্রার্থী শুক্রা মুন্ডার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রণকৌশল স্থির করতেই এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক।

ঝাড়গ্রামের বিনপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী চিকিৎসক প্রণত টুডু এক প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন। তিনি প্রথমে প্রয়াত বিজেপি কর্মী কিশোর মান্ডীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর ছবিতে মাল্যদান করেন। পরে ভৈরব থানে পুজো দিয়ে ধামসা-মাদলের তালে আদিবাসী মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করেন। তিনি স্থানীয় পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রচারের এই ডামাডোলের মধ্যেই মুর্শিদাবাদের বড়ঞা কেন্দ্রে দেখা গেল উল্টো ছবি। সেখানে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে সুখেন কুমার বাগদির নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দলের একাংশ কর্মী। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় তাঁরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব পক্ষই এখন কোমর বেঁধে ময়দানে। যত দিন যাচ্ছে, প্রচারের তীব্রতা ও অভিনবত্ব ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande